পদার্থের অবস্থা: (States of Matter).

👉পদার্থের তিনটি অবস্থা: কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। এছাড়াও আরও দুটি অবস্থা আছে: 

(১) প্লাজমা অবস্থা।

(২) অতি তরল অবস্থা।



👉গলন: কঠিন থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরকে গলন বলে।

👉বাষ্পীভবন: তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তরকে বাষ্পীভবন বলে।

👉ঘনীভবন: বাষ্পীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরকে ঘনীভবন বলে।

👉কঠিনীভবন: তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরের কঠিনীভবন বলে।

👉উর্ধ্বপাতন: কয়েকটি কঠিন পদার্থ আছে, যাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তরলে পরিণত না হয় সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় আসে। পদার্থের এই পরিবর্তনকে বলে উর্ধ্বপাতন।

👉গলনাঙ্ক: প্রমাণ চাপে (৭৬ সেমি) যে নির্দিষ্ট উষ্ণতায়, কোন বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হতে আরম্ভ করে এবং সমগ্র পদার্থটি বললে তরলে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত উষ্ণতা স্থির থাকে, সেই উষ্ণতা কে ঐ পদার্থের স্বাভাবিক গলনাঙ্ক বলে।

👉হিমাঙ্ক: প্রমাণ চাপে (৭৬ সেমি) যে নির্দিষ্ট উষ্ণতায়, কোন বিশুদ্ধ তরল পদার্থ কঠিনে পরিণত হয় এবং সমগ্র তরলটি জমে কঠিনে পরিণত না হওয়া অবধি উষ্ণতা স্থির থাকে, সেই উষ্ণ থাকে ওই তরলের স্বাভাবিক হিমাঙ্ক বলে।

👉অতিশীতলীকরণ: কোন তরলকে ঠান্ডা করলে তা হিমাঙ্কে কঠিনে পরিণত হয়। কিন্তু তরলকে যদি খুব ধীরগতিতে শীতলীকরণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তরলটি কঠিন না হয় তা তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে। এই অবস্থাকে অতিশীতলীকরণ বলা হয়। তবে উক্ত অবস্থা স্থায়ী হয় না। তরল টিকে নাড়া দিলে তা হঠাৎ করে কঠিনে পরিণত হয় এবং তার উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে হিমাঙ্কে পৌঁছায়।

👉পুনঃশিলীভবন: চাপ প্রয়োগে বরফ গলে যাওয়া এবং চাপ অপসারিত হলে বরফ গলা জল পুনরায় বরফের পরিণত হওয়ার ঘটনাকে পুনঃশিলীভবন বলা হয়।

👉হিমমিশ্রণ: যে মিশ্রণ দিয়ে মূল পদার্থের গলনাঙ্ক এর চেয়ে অনেক কম উষ্ণতার সৃষ্টি করা যায়, সেই মিশ্রণকে হিম মিশ্রণ বলে। ৩ ভাগ বরফের সঙ্গে ১ ভাগ ওজনের সাধারণ লবণ মেশালে যে মিশ্রণ তৈরি হয় তার উষ্ণতা -২০°C।

👉ইউটেক্টিক উষ্ণতা: যে উষ্ণতায় দ্রাব ও দ্রাবক, দ্রবণের মধ্যে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে কঠিনে পরিণত হয়, তাকে এই দ্রবণের ইউটেক্টিক উষ্ণতা বলে।

👉সংকট উষ্ণতা: কোন তরল থেকে উৎপন্ন একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় কিংবা ওর চেয়ে কম উষ্ণতায় রেখে চাপ প্রয়োগ করলে বাষ্পটি তরলে পরিণত হয়। ওই উষ্ণতা কাকে বলে সংকট উষ্ণতা।

👉বাষ্পায়ন: যে কোন উষ্ণতায় তরল এর উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে তরল বাষ্পে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বাষ্পায়ন বলে।

👉স্ফুটন: তাপ প্রয়োগের ফলে, একটি নির্দিষ্ট চাপ উষ্ণতায় তরল এর সমস্ত অংশ থেকে দ্রুত বাষ্পায়ন করতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।

👉শিশিরাঙ্ক: যে উষ্ণতায় কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে উপস্থিত, জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়, সেই প্রশ্ন তাকে ওই বায়ুর শিশিরাঙ্ক বলে।

👉মেঘ: উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু হালকা বলে উপরে উঠে যায়। উপরে বায়ুর চাপ কম থাকায় ওই বায়ু আয়তনে বেড়ে শীতল হয়। তাছাড়া উপরে বায়ুর উষ্ণতা অপেক্ষাকৃত অল্প বলে আর্দ্র বায়ু শীতল হয়। এইভাবে আর্দ্র বায়ুর উষ্ণতা যখন শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, তখন কিছু পরিমাণ জলীয়বাষ্প বাতাসের ধূলিকণার গাঁয়ে ছোট ছোট আকারে ভাসতে থাকে। একেই মেঘ বলে। অর্থাৎ ঊর্ধ্বাকাশে কুয়াশায় মেঘ।

👉লীনতাপ: প্রমাণ চাপে একক ভরের কোন পদার্থের উষ্ণতার পরিবর্তন না করে শুধু অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য যে পরিমান তাপ প্রয়োগ বা নিষ্কাশন করতে হয়, সেই পরিমান তাপ কে ওই পদার্থের ওই অবস্থার পরিবর্তনের লীনতাপ বলে।


  • CGS পদ্ধতিতে লীন তাপের একক ক্যালোরি/গ্রাম।
  • বরফ গলনের লীনতাপ ৮০Cal/gm.
  • জলের ফুটনাঙ্ক----১০০°C.
  • ইথানলের ফুটনাঙ্ক----৭৮°C.
  • বেনজিনের স্ফুটনাঙ্ক----৮০°C.
  • পারদের স্ফুটনাঙ্ক----৩৫৮°C.
  • ইথারের ফুটনাঙ্ক----৩৫°C.
  • অ্যাসিটোনের স্ফুটনাঙ্ক----৫৬°C.
  • তরল অক্সিজেনের স্ফুটনাঙ্ক---- -১৮৩°C.
  • তরল হাইড্রোজেনের স্ফুটনাঙ্ক---- -২৫৩°C.
  • ৪°C উষ্ণতায় জলের ঘনত্ব সর্বাধিক।
  • মাছ,মাংস টাটকা রাখতে; আইসক্রিম কুলপি বরফ তৈরিতে; রাসায়নিক ও পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন পরীক্ষায় নিম্ন উষ্ণতা তৈরিতে হিমমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
  • হিম মিশ্রণের উষ্ণতা হয় -২০°C.
  • দার্জিলিঙে জলের স্ফুটনাঙ্ক ৯৩.৬°C.
  • মাউন্ট এভারেস্টের জলের স্ফুটনাঙ্ক ৭০°C.



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "পদার্থের অবস্থা: (States of Matter)."