মৌলিক অধিকার: (Fundamental right's).
অধিকারগুলি সামাজিক জীবনের দাবি এবং তারা ব্যক্তিদের তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে। কিছু মৌলিক অধিকার কেবল রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা সরবরাহ করে এবং ব্যক্তিগত ব্যক্তিদের ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না।
মৌলিক অধিকারগুলি সংবিধানের দ্বারা বিনা বৈষম্যবিহীন সকল ব্যক্তির পক্ষে সুরক্ষিত এবং সুরক্ষিত।
ভারতের মৌলিক অধিকার গুলি সংবিধানের তৃতীয় অংশে ১২-৩৫ নং ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। মূল সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সংখ্যা ছিল ৭টি। কিন্তু ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৩১ নং ধারায় বর্ণিত সম্পত্তির অধিকার বাতিল করে সাধারণ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সম্পত্তির অধিকার ১২নং অংশে ৩০০(কি) ধারায় লিপিবদ্ধ আছে। বর্তমানে মৌলিক অধিকারের সংখ্যা ৬টি।
(১) সাম্যের অধিকার (১৪-১৮ নং ধারা)।
(২) স্বাধীনতার অধিকার (১৯-২২ নং ধারা)।
(৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (২৩-২৪ নং ধারা)।
(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (২৫-২৮ নং ধারা)।
(৫) শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার (২৯-৩০ নং ধারা)।
(৬) সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার (৩২ নং ধারা)।
সাম্যের অধিকার:
১৪ নং ধারা: 'ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্র হয়নি এর দৃষ্টিতে সাম্য অথবা আইন সমূহ দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না'। এই অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অধিকার দুটি হল- আইনের দৃষ্টিতে সমতা অধিকার এবং আইনের দ্বারা সংরক্ষিত হবার অধিকার।
১৫ নং ধারা: রাষ্ট্র কোন নাগরিকদের প্রতি কেবলমাত্র জাতি-ধর্ম-বর্ণ, জন্মস্থান বা নারী-পুরুষ ভেদে পৃথক আচরণ করতে পারে না। কোনো নাগরিক আবার উপরোক্ত কারণগুলো কোনটির জন্য দোকান, সাধারণের ব্যবহার্য রেস্তোরা, হটেল এবং সরকারি অর্থে পরিচালিত কূপ, পুষ্করিণী, স্নানাগার বা সমাগম স্থানে ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।
১৬ নং ধারা: সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সকলের সমান সুযোগ ও সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। জাতি,ধর্ম স্ত্রী-পুরুষ বর্ণ, বংশ ও জন্মস্থান ইত্যাদি বিষয়ে পার্থক্য থাকলেও কেবলমাত্র এই কারণগুলি পরিপ্রেক্ষিতে কোন ব্যক্তি সরকারি চাকরি লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। আবার এইসব কারণে ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোন নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না।
১৭ নং ধারা: 'অস্পৃশ্যতা' নিষিদ্ধ করা হয়। অস্পৃশ্যতার সাথে জড়িত যে কোনো আচরণ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। অস্পৃশ্যতারঅজুহাতে কোন ব্যক্তিকে অযোগ্য বলে কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তা আইন অনুসারে দন্ডনীয় হবে। এই উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে 'অস্পৃশ্যতা-সংক্রান্ত' অপরাধ আইন পাস করা হয়েছে।
১৮ নং ধারা: বিদ্যাবিষয়ক বা সামরিক খেতাব ভিন্ন রাষ্ট্র অন্য কোন খেতাব দান করতে পারবে না। আবার বৈদেশিক কোন রাষ্ট্রের নিকট থেকে ভারতীয় নাগরিক কোন কোন খেতাব গ্রহণ করতে পারবে না। সরকারি খেতাব জনগণের মধ্যে কৃত্রিম শ্রেণীর বৈষম্য সৃষ্টি করে বলে ইহা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সাথে বিশেষ অসঙ্গতিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
স্বাধীনতার অধিকার:
১৯ নং ধারা: মূল সংবিধানে ৭ প্রকার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা ছিল।পরে ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এর সংখ্যা হ্রাস করে ৬ প্রকার করা হয়েছে। যথা-
(১) বাক স্বাধীনতা।
(২) শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র ভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার
(৩) সমিতি বা ইউনিয়ন গঠনের অধিকার।
(৪) ভারতের সর্বোচ্চ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার।
(৫) ভারতের যেকোনো স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপনের অধিকার।
(৬) যেকোনো বৃত্তি অবলম্বন করার অধিকার।
২০ নং ধারা: অপরাধ ও অপরাধী সংক্রান্ত তিনটি অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
(ক) অপরাধ যে সময়ে করা হয় সেই সময়কার প্রচলিত আইন অনুসারে যে শাস্তি দেওয়া যেত। তার অধিক শাস্তি অপরাধীকে দেওয়া যাবে না।
(খ) একজন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তিও দেওয়া যাবে না।
(গ) কোন ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
২১ নং ধারা: জীবনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। 'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি' ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। 'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি' কথাটির অর্থ হল আদালত শুধু বিচার করবে যে, যে পদ্ধতিতে কোন ব্যক্তির স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে কিনা তা কোন বিধিবদ্ধ বা বৈধ আইন অনুসারে করা হয়েছে কিনা।
২২ নং ধারা: গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে কয়েকটি অধিকারের উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে,কাউকে যতসম্ভব শীঘ্র কারণ না দেখিয়ে গ্রেপ্তার করে আটক রাখা যাবে না। আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করা অধিকার থাকবে।
শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার:
২৩ নং ধারা: কাউকে বিনা পারিশ্রমিকে বা বাধ্যতামূলকভাবে বেকার খাটানো যাবে না (২৩ক)। রাষ্ট্র জাতীয় স্বার্থে যে কোনো ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক ভাবে বেগার খাটাতে পারে (২৩খ)।
২৪ নং ধারা: শিশু শ্রমিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ১৪ বছরের কম বয়স্ক শিশুদের কোন কারখানা, খনি বা অন্য কোন বিপদজনক কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।
ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার:
২৫ নং ধারা: ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার অনুসারে সব ব্যক্তিদের বিবেকের স্বাধীনতা এবং ধর্মবিশ্বাস, ধর্মানুষ্ঠান ও ধর্ম প্রচারে স্বাধীনতা থাকবে। ভারতের নাগরিক ও ভারতের বসবাস করি বিদেশীরা সংবিধান প্রদত্ত এই অধিকারের সুযোগ লাভ করবে। ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে।
২৬ নং ধারা: প্রত্যেক ধর্ম সম্প্রদায় যেমন:-
(১) ধর্ম ও দানের উদ্দেশ্যে প্রতিস্থাপন ও রক্ষা করার।
(২) নিজও নিজও কর্ম বিষয়ক কার্যাবলীর ব্যবস্থা করার।
(৩) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করার ও মালিক হবার।
(৪) আইন অনুসারে ওই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকার ভোগ করবে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, এই অধিকার গুলি অবাধ বা নিরঙ্কুশ নয়।
অধিকার গুলি রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২৭ নং ধারা: কোন বিশেষ ধর্ম বা ধর্ম সম্প্রদায়ের উন্নতি অথবা সংরক্ষণের জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন প্রকার কর প্রদান করতে বাধ্য করা যাবে না। ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে রাষ্ট্র যাতে নিরপেক্ষ বজায় রেখে চলে এবং বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় যাতে জোর করে চাপিয়ে না দিতে পারে সে জন্য সংবিধানে উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৮ নং ধারা: সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থ দ্বারা পরিচালিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম শিক্ষা দেওয়া যাবে না। ধর্ম মূলক উপাসনায় যোগদান করতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। ধর্মীয় শিক্ষায় যোগদান কারী ব্যক্তি নাবালক বা নাবালিকা হলে তাদের অভিভাবকদের সম্মতি আগেই গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার:
২৯ নং ধারা: ভারতে কোন অঞ্চলের অধিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি থাকে তবে সেই ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার অধিকার সেই অঞ্চলের অধিবাসীরা ভোগ করবে। সরকার পরিচালিত বা সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবলমাত্র ধর্ম, বংশ, বর্ণ বা ভাষার জন্য কাউকে প্রবেশ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
৩০ নং ধারা: ধর্মভিত্তিক বা ভাষাভিত্তিক উভয় প্রকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনা করার অধিকার ভোগ করবে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত, কেবলমাত্র এই কারণে সরকারি সাহায্যের ব্যাপারে এদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না।
সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার:
৩২ নং ধারা: সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকার গুলি বলবৎ করার জন্য পাঁচ ধরনের লেখ জারি করেছেন। সেগুলি হল-
(১) বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ।
(২) পরমাদেশ।
(৩) প্রতিষেধ।
(৪) অধিকারপৃচ্ছা।
(৫) উৎপ্রেষণ।
সংবিধানের ২২৬ নং ধারায় প্রত্যেক রাজ্যের হাইকোর্ট এইসব লেখ আদেশ বা নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা ভোগ করে।
ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
১. ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকার কত নম্বর অংশে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
উঃ-৩ নং অংশে।
২. কত ধারায় ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকার গুলি আছে?
উঃ-সংবিধানের ১২ থেকে ৩৫ নং ধারায়।
৩. ভারতের সংবিধানে কতগুলি মৌলিক অধিকার আছে?
উঃ-বর্তমানে ৬টি মৌলিক অধিকার আছে।
৪. কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকার থেকে বাদ গেছে?
উঃ-সম্পত্তির অধিকার।
৫. সম্পত্তির অধিকার কত নম্বর ধারায় ছিল?
উঃ-৩১ নং ধারায় ছিল।
৬. সম্পত্তির অধিকার বর্তমানে কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ৩০০(ক) ধারায়, ১২ নং অংশে লিপিবদ্ধ আছে?
৭.কততম সংবিধান সংশোধনীতে সম্পত্তির অধিকার মৌলিক অধিকার থেকে সাধারন অধিকার করা হয়?
উঃ- ৪৪ তম সংবিধান সংশোধনী, ১৯৭৮.
৮.ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকার গুলি কি কি?
উঃ- (১) সাম্যের অধিকার।
(২) স্বাধীনতার অধিকার।
(৩) শোষনের বিরুদ্ধে অধিকার।
(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার।
(৫) শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার।
(৬) সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার।
৯.সাম্যের অধিকার কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ১৪-১৮ নং ধারায়।
১০.স্বাধীনতার অধিকার কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ১৯-২২ নং ধারায়।
১১. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ২৩-২৪ নং ধারায়।
১২. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ২৫-২৮ নং ধারায়।
১৩. শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ২৯-৩০ নং ধারায়।
১৪. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার কত নম্বর ধারায় আছে?
উঃ- ৩২ নং ধারায়।
১৫. হাইকোর্ট কত নম্বর ধারায় সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার প্রয়োগ করে?
উঃ- ২২৬ নং ধারায়।
১৬. ভারতের মৌলিক অধিকার কোন দেশের সংবিধানের দ্বারা অনুপ্রেনিত?
উঃ- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা।
১৭. সংবিধানের ১৪ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- 'আইনের দৃষ্টিতে সকল সমান অধিকার ভোগ করবে' ও 'আইন সমূহের দ্বারা সকল সমভাবে সংরক্ষিত হবে'।
১৮. ১৫ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- রাষ্ট্র কোন নাগরিকের প্রতি কেবলমাত্র জাতি, ধর্ম, বর্ণ, জন্মস্থান বা নারী-পুরুষ ভেদে আচরণ করতে পারবে না। কোনো নাগরিক আবার উপরোক্ত কারণগুলির কোনটির জন্য দোকান, সাধারণের ব্যবহার্য রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং সরকারি অর্থে পরিচালিত কূপ, পুষ্করিণী, স্নানাগার বা সমাগম স্থানের ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।
১৮. ১৬ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সকলের সমান সুযোগ ও সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। জাতি-ধর্ম স্ত্রী-পুরুষ, বর্ণ,বংশ ও জন্মস্থান ইত্যাদি বিষয়ে পার্থক্য থাকলেও কেবলমাত্র এই কারণগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যক্তি সরকারী চাকুরী লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। আবার এইসব কারণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোন নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না।
১৯. ১৭ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- অস্পৃশ্যতা নিষেধ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে 'অস্পৃষ্টতা সংক্রান্ত' অপরাধ আইন পাস করা হয়েছে।
২০. ১৮ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- কোন রকম পদবী বা পদক গ্রহণের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২১. ১৯ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- ১৯ নং ধারায় ছয় প্রকার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
(১) বাক স্বাধীনতা।
(২) শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র ভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার।
(৩) সমিতি বা উনিয়ন গঠনের অধিকার।
(৪) ভারতের সর্বত্র স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করার অধিকার।
(৫) ভারতের যেকোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন করার অধিকার।
(৬) মে কোনো বৃত্তি অবলম্বন করার অধিকার।
২২. ২০ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- অপরাধ ও অপরাধী সংক্রান্ত তিনটি অধিকারের কথা বলা আছে।
(১) অপরাধ যে সময় হয় সেই সময়কার প্রচলিত আইন অনুসারে তার তার শাস্তি দেয়া যেতে পারে। তার অধিক শাস্তি অপরাধীকে দেওয়া যেতে পারে না।
(২) একজন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিক শাস্তি দেয়া যেতে পারে না।
(৩) কোন ব্যক্তিকে নিজেই বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
২৩. ২১ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- জীবনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উল্লেখ করা হয়েছে। 'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি' ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি' বিধিবদ্ধ বা বৈধ আইন অনুসারে করা হয়েছে কিনা।
২৪. ২২ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে কয়েকটি অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
(১) কাউকে যথাসম্ভব শীঘ্র কারণ না দেখিয়ে গ্রেপ্তার করে আটক রাখা যাবে না।
(২) আটক ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করার অধিকার থাকবে।
২৫. ২৩ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- ২৩(১) নং ধারায়, কাউকে বিনা পারিশ্রমিকে এ বা বাধ্যতামূলকভাবে বেগার খাটানো যাবে না।
২৩(২) নং ধারায়,জাতীয় স্বার্থে যে কোনো ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে বেকার খাটিয়ে রাষ্ট্র ভোগ করতে পারে।
২৬. ২৪ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- শিশু শ্রমিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে,বলা হয়েছে 14 বছরের কম বয়স্ক শিশুদের ওকে কোন কারখানা, খনি বা অন্য কোন বিপদজনক কাজ নিযুক্ত করা যাবেনা।
২৭. ২৫ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- ধর্মীয় স্বাধীনতা অনুসারে সব ব্যক্তি বিবেকের স্বাধীনতা এবং ধর্ম বিশ্বাস, ধর্মানুষ্ঠান, ধর্ম প্রচার স্বাধীনতা থাকবে।
২৮. ২৬ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- প্রত্যেক ধর্ম সম্প্রদায় (১) ধর্ম ও দানের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত স্থাপন ও রক্ষা করবে, (২) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করার ও মালিক হবার অধিকার থাকবে, (৩) নিজে নিজে ও কর্ম বিষয়ক কার্যাবলীর ব্যবস্থা করা, (৪) আইন অনুসারে ওই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকার ভোগ করবে। তবে এই অধিকার গুলি অবাধ ও নিরঙ্কুশ নয় অধিকার, গুলি রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২৯. ২৭ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- কোনো বিশেষ ধর্ম বা ধর্ম সম্প্রদায়ের উন্নতি অথবা সংরক্ষণের জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন প্রকার কর প্রদান করতে বাধ্য করা যাবে না।
৩০. ২৮ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থ দ্বারা পরিচালিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম শিক্ষা দেওয়া যাবেনা এবং ধর্ম মূলক উপাসনার যোগদান করতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না।ধর্মীয় শিক্ষায় যোগদানকারী ব্যক্তি নাবালক নাবালিকা হলে তাদের অভিভাবকের সম্মতি আগেই অন করতে হবে।
৩১. ২৯ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- ভারতের কোন অঞ্চলের অধিবাসীদের যদি নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি থাকে তবে সেই ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার অধিকার সেই অঞ্চলের অধিবাসীরা ভোগ করে। সরকার পরিচালিত বা সরকারি অর্থ প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবলমাত্র ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার জন্য কাউকে প্রবেশ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
৩২. ৩০ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- ধর্মভিত্তিক বা ভাষাভিত্তিক উপকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষায়াতন প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনা করার অধিকার ভোগ করবে। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দ্বারা পরিচালিত,কেবলমাত্র সেই কারণে সরকারি সাহায্যের ব্যাপারে তাদের প্রতি প্রভেদ মূলক আচরণ করা যাবে না।
৩৩. ৩২ নং ধারায় কি বলা আছে?
উঃ- সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকারকে বলবৎ করার জন্য পাঁচ ধরনের লেখ,আদেশ বা নির্দেশ জারি করার কথা বলেছেন।
৩৪. লেখ, আদেশ বা নির্দেশ গুলো কি কি?
উঃ- (১) বন্দীপ্রত্যক্ষীকরণ (HABEAS CORPUS).
(২) পরমাদেশ (MANDAMUS).
(৩) প্রতিষেধ (PROHIBITION).
(৪) অধিকারপৃচ্ছা (QUOWARRANTO).
(৫) উৎপ্রেষণ (CERTIORARI).
৩৫. সংবিধানে কোন মৌলিক অধিকার গুলি নাগরিক এবং অ-নাগরিকরা উভয়েই ভোগ করতে পারে?
উঃ- ২১ নং ধারায় জীবনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "মৌলিক অধিকার: (Fundamental right's)."