দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন | Damodar Valley Corporation (DVC):
হুগলি নদীর একটি উপনদী হল দামোদর। প্রতি বছর বন্যার ফলে এর ক্ষয়ক্ষতি হত যে দামোদরকে 'দুঃখের নদ' আখ্যা দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এই বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করে দামোদর অববাহিকার আর্থ-সামাজিক উন্নতি ঘটাতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেনেসি ভ্যালি অথরিটি’ (TVC) -এর অনুকরণে 'দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন' গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথকমিটি। ভারত সরকার 'Central Technical Power Bord' -এর হাতে এর দায়িত্ব দেন। এই বোর্ডের সদস্য W. L. Voorduin সর্বপ্রথম দামোদর উপত্যকার সামগ্রিক পরিকল্পনার একটি নকশা প্রস্তুত করেন। এই নকশা বাস্তবে রূপদানের উদ্দেশ্যে কেন্দ্র ও দুই রাজ্য (তৎকালীন বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ) সরকারের মিলিত উদ্যোগে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ৭ জুলাই একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা হিসেবে 'দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন' (DVC) গঠিত।
দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন রূপায়ণের উদ্দেশ্য:
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ: দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হল বন্যা নিয়ন্ত্রণ। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য দামোদর ও তার উপনদীগুলিতে পাঁচটি বাঁধ নির্মিত হয়েছে।
- জলসেচ: দামোদর অববাহিকায় জলসেচের জন্য DVC - এর তত্ত্বাবধানে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় দামোদর নদীর ওপর দুর্গাপুর ব্যারেজ (সেচবাঁধ) নির্মিত হয়। এর দৈর্ঘ্য ৬৯২ মিটার এবং উচ্চতা ১২ মিটার।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন: সুলভ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে অনুমান করে DVC মাইথন, পাঞ্চেৎ ও তিলাইয়া এই তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে।
- পরিবহন: দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে কাটা খাল দুটিতে DVC জলপথ পরিবহণের ব্যবস্থা করেছে। বামদিকের খালপথের মাধ্যমে দুর্গাপুর ও রানিগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চল এবং কলকাতা শিল্পাঞ্চলের মধ্যে কয়লা ও শিল্পজাত দ্রব্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- মৎস্যচাষ: DVC নির্মিত বাঁধগুলির পশ্চাতের জলাধারে প্রচুর মৎস্যচাষ করা হয়।
দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন দ্বারা উপকৃত অঞ্চল:
DVC দ্বারা দামোদর উপত্যকায় পরিকল্পনা রূপায়িত হওয়ার ফলে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ, পালামৌ, রাঁচি, ধানবাদ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া প্রভূতি অঞ্চল উপকৃত হয়ে চলেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন | Damodar Valley Corporation (DVC):"