নদীমাতৃক সভ্যতা কাকে বলে? নদীমাতৃক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণ:
আদিম মানুষ সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে যাযাবর এবং শিকারি জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী জনবসতি গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়। নানান সুবিধার জন্য তারা নদীতীরবর্তী অঞ্চলে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে থাকে। নদীতীরবর্তী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা জনবসতিগুলি যে যে সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল, সেই সকল সভ্যতাগুলিকে বলা হত নদীমাতৃক সভ্যতা।
প্রাচীন কালে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সভ্যতা গড়ে ওঠার পিছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান ছিল। যথা—
উর্বর জমি: আদিম মানুষ লক্ষ করেছিল যে, নদীতে বন্যার ফলে দু-কূল ছাপিয়ে যখন বন্যার জল উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন উপকূল অঞ্চলে নদীর পলিমাটি সঞ্চিত হয়। এই পলিমাটিসমৃদ্ধ জমি খুবই উর্বর এবং এই জমিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ফসল উৎপাদিত হয়।
জলসচের সুবিধা: নদীতীরবর্তী অঞ্চলে চাষাবাদ করলে জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে কৃষি উৎপাদনের সুবিধার্থে আদিম মানুষ দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন নদীর উপত্যকা অঞ্চলে বসতি গড়ে তুলেছিল।
অনুকূল আবহাওয়া: নদীতীরবর্তী অঞ্চলে অন্যান্য স্থানের তুলনায় আরামদায়ক জলবায়ু বিরাজ করে, যা মানুষের বসতি স্থাপনের পক্ষে উপযোগী। এ ছাড়া মানুষের প্রথম প্রয়োজন পানীয় জলের সুবিধাও এর একটা বড়ো কারণ।
পশুপালনের ক্ষেত্রে সুবিধা: নদীতীরবর্তী অঞ্চলের জমি যথেষ্ট উর্বর হওয়ায় এবং জলাশয় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জলাভূমিতে তৃণভূমির প্রসার ঘটায় আদিম মানুষ ওইসব জায়গায় পশুচারণ করত। এই পশুপালনের সুবিধা থাকায় প্রাচীন কালে মানুষ নদীতীরবর্তী স্থানকে বসবাসের উপযোগী করে তোলে।
যোগাযোগের সুবিধা: আদিম মানুষ নদীপথকে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। ফলে যাতায়াতের সুবিধার্থে মানুষ নদীতীরবর্তী স্থানকেই আদর্শ স্থান বিবেচনা করে সেখানে বসতি স্থাপন করে।
ব্যাবসাবাণিজ্যের সুবিধা: নদীপথে মানুষ নৌকার সাহায্যে একস্থান থেকে অন্যস্থানে জিনিসপত্র নিয়ে যেত, ফলে ব্যাবসাবাণিজ্য পূর্বের তুলনায় সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা বিধান: প্রাচীন কালে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই থাকত। তখন মানুষ উপলব্ধি করে যে, নদীতীরে বাস করলে নদী অতিক্রম করে আক্রমণ করা শত্রুর পক্ষে কষ্টসাধ্য। তাই নিরাপত্তার জন্য মানুষ নদীতীরবর্তী অঞ্চলকেই বেছে নেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "নদীমাতৃক সভ্যতা কাকে বলে? নদীমাতৃক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণ:"