ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা কাকে বলে? ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য: (Laterite Soil).


ল্যাটিন শব্দ 'Later' থেকে ল্যাটেরাইট শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে, যার অর্থ ‘ইট’ (Brick)। ইটের মত শক্ত ও লাল রঙের যে মাটি তাকেই ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা (Laterite Soil) বলে।


ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার উৎপত্তি:
বর্ষাকালে বৃষ্টির ফলে ধৌত প্রক্রিয়ায় পৃষ্ঠস্তরের বালি, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়ামের ক্ষারীয় পদার্থ নীচের স্তরে অপসৃত হয়। শুষ্ক ঋতুতে পৃষ্ঠস্তরে অদ্রবণীয় লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইড জমাট বেঁধে ল্যাটেরাইট সৃষ্টি হয়।

ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার অবস্থান:
কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রের পূর্বঘাট, পশ্চিমঘাট পর্বত, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি, মেঘালয় মালভূমি, আন্দামান ও নিকোবর ২.৫ লক্ষ বর্গকিমি এলাকায় (৮%) দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের মালভূমি অঞ্চলে ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা দেখা যায়।

ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার উপাদান ও বৈশিষ্ট্য:
  • পৃষ্ঠ স্তর থেকে ক্ষারীয় অক্সাইডগুলি নিম্নস্তরে স্থানান্তরিত হওয়ায় অম্লধর্মী হয়।
  • চুন, পটাশ, ফসফরাস ও নাইট্রোজেন খুব কম। জৈব পদার্থহীন অনুর্বর হয়।
  • লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড হল মাটির প্রধান উপকরণ। এর জন্য মাটি লাল, বাদামি ও হলদে রঙের হয়।
  • সেসক্যুই অক্সাইডের জন্য মাটি খুবই শক্ত। কাঁকড়ের মতো বড়ো দলা যুক্ত ও মৌচাকের মতো গর্তসমন্বিত হয়। ফলে জলধারণ ক্ষমতা কম হয়।
  • আর্দ্র অবস্থায় নরম ও শুকিয়ে গেলে শক্ত ইটের মতো হয়।

ল্যাটারাইট মৃত্তিকা অনুর্বরতার কারণ:
বাদামী বর্ণের কাঁকর জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি এই মৃত্তিকায় জৈব পদার্থ, চুন, ম্যাগনেশিয়াম, নাইট্রোজেন প্রভৃতির পরিমাণ খুবই কম। লিচিং পদ্ধতি অত্যন্ত সক্রিয় বলে মাটির উপর থেকে খনিজ পদার্থ নীচে চলে যায় (Laterite soils lack fertility due to intensive leaching)। এই মাটির জলধারণ ক্ষমতাও খুব কম। তাই ল্যাটেরাইট মাটি একেবারে অনুর্বর।

ল্যাটারাইট মৃত্তিকার গুরুত্ব:
এটি কৃষির অনুপযুক্ত। জলসেচ দ্বারা কিছু চা, কফি, রবার চাষ হয়। গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর নির্মাণ হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা কাকে বলে? ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য: (Laterite Soil)."