নব্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট: (Characteristics of the Neolithic Age).
প্রস্তর যুগের শেষ পর্যায়টি নব্য প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত। পৃথিবীর সব জায়গায় একই সময়ে নব্য প্রস্তর যুগ আবির্ভূত হয়নি। ইরাক, জর্ডন, পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে নব্য প্রস্তর যুগের সংস্কৃতির নিদর্শন মিলেছে ঠিকই তবে ভারতের মেহেরগড় সভ্যতা নব্য প্রস্তর যুগীয় সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
নব্য প্রস্তর যুগের সময়কাল:
নব্য প্রস্তর যুগের সময়কাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ পর্যন্ত। ভারতে কিন্তু ৬০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ বা স্থানভেদে আরও পরে এই যুগের সূচনা হয়।
নব্য প্রস্তর যুগের জীবিকা:
নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ কৃষিকাজের কৌশল আবিষ্কার করে এবং কৃষির প্রয়োজনেই পশুপালন করতে শুরু করে।
নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার:
এই যুগের হাতিয়ারগুলি ছিল যথেষ্ট উন্নত। হাতিয়ারগুলিকে ঘষে ঘষে মসৃণ ও তীক্ষ্ণ করা হত। কৃষিকাজের অগ্রগতির ফলে বীজবপন এবং আগাছা পরিষ্কারের জন্য নানারকম যন্ত্রপাতির উদ্ভব ঘটে। কাজের সুবিধার জন্য তারা নতুন যন্ত্র তৈরি করে।
যথা— কাস্তে, হামানদিস্তা, জাঁতা, হাতুড়ি, বাটালি ইত্যাদি।
নব্য প্রস্তর যুগের জীবনযাত্রা:
এই যুগের মানুষ চাকাযুক্ত গাড়ি ও পালতোলা নৌকা আবিষ্কারের দ্বারা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায়, কুমোরের চাকা আবিষ্কার করে শিল্পের উন্নতি ঘটায়। তারা এই যুগে আগুনের পরিপূর্ণ ব্যবহার শেখে।
নব্য প্রস্তর যুগের সংস্কৃতির অন্যান্য দিক:
নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ কৃষিকাজ এবং পশুপালনের স্বার্থে যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।
নব্য প্রস্তর যুগের শেষ পর্যায়ে পাথরের পাশাপাশি মানুষ তামার ব্যবহার শুরু করে। তাই পণ্ডিতরা এই পর্যায়কে তাম্র-প্রস্তর যুগ বলেও অভিহিত করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "নব্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট: (Characteristics of the Neolithic Age)."