'জীবন বিজ্ঞান' জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়:(Control and coordination in the living world).
১. চলন বা সঞ্চালন কাকে বলে ?
উঃ- যে প্রক্রিয়ায় জীব স্বতঃস্ফুর্তভাবে বা কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে দেহের কোনো অংশ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঙ্গালন করে তাকে চলন বা সঞ্চালন বলে ।
২. ট্রপিক ও ট্যাকটিক চলনের মূল পার্থক্য কী?
উঃ- ট্রপিক চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না, ট্যাকটিক চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়।
৩. জিওট্রপিক চলন কাকে বলে?
উঃ- উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক চলন বলে। যেমন— উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের টানে মাটির গভীরে প্রবেশ করে।
৪. প্রাণীদের গমনের দুটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করো?
উঃ- প্রাণীদের গমনের দুটি উদ্দেশ্য হল-
(১) খাদ্য অন্বেষণের জন্য প্রাণীদের গমন হয়।
(২) বাসস্থান খোঁজার জন্য প্রাণীদের গমন হয় ।
৫. সিলিয়ারি গমন কাকে বলে ?
উঃ- সিলিয়ার আন্দোলনের সাহায্যে যে গমন তাকে সিলিয়ারি গমন বা সিলিয়ারি গতি বলে। যেমন -প্যারামিসিয়ামের গমন ।
৬. মাছের গমনে পুচ্ছ পাখনার ভূমিকা কী ?
উঃ- পুচ্ছ পাখনা গমনকালে মাছকে দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে ।
৭. মানুষের গমনকালে ভারসাম্য রক্ষা করে কোন কোন অঙ্গ ?
উঃ- মানুষের গমনকালে লঘুমস্তিষ্ক এবং কর্ণের অর্ধচন্দ্রাকার নালি ও অটোলিথ যন্ত্র দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে ।
৮. সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে?
উঃ- দুটি অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। যে সব অস্থিসন্ধি নড়াচড়া করতে পারে তাদের সচল অস্থিসন্ধি বলে। যেমন-হিপ সন্ধি, হাঁটু সন্ধি।
৯. কব্জা সন্ধি কাকে বলে ?
উঃ- একটি অস্থির গোল প্রান্ত যখন অপর একটি অস্থির অর্ধগোলাকার অবতল অঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তাকে কব্জা সন্ধি বলে। হাঁটু সন্ধি, কনুই সন্ধি এই প্রকারের সন্ধি ।
১০. হরমোন ও উৎসেচকের দুটি পার্থক্য কী?
উঃ- (১) হরমোন ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, কিন্ত উৎসেচক ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না।
(২) হরমোন অন্তঃক্ষরা কোশ থেকে নিঃসৃত হয়। কিন্তু উৎসেচক বহিঃক্ষরা কোশ থেকে ক্ষরিত ।
১১. হরমোনের দুটি কাজ উল্লেখ করো ?
উঃ- (১) হরমোন জীবদেহের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। (২) হরমোন জীবদেহে যৌন লক্ষণ প্রকাশে সাহায্য করে।
১২. হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলে কেন ?
উঃ- হরমোন কোশে কোশে রাসায়নিক বার্তা বহন করে তাই হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলে।
১৩. সাইটোকাইনিনের দুটি কাজ বা ভূমিকা উল্লেখ করো ।
উঃ- (১) সাইটোকাইনিন অগ্রমুকুলের বৃদ্ধির হ্রাস ঘটিয়ে পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ঘটায়।
(২) পত্রমোচন বিলম্বিত করে এবং ক্লোরোফিল বিনষ্টকরণ প্রতিহত করে।
১৪. উদ্ভিদের একটি প্রকল্পিত হরমোনের নাম ও তার কাজ উল্লেখ করা?
উঃ- উদ্ভিদের একটি প্রকল্পিত হরমোন হল ফ্লোরিজেন। এটি ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
১৫. অক্সিনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো ।
উঃ- (১) অক্সিনের প্রবাহ সবসময় মেরুবর্তী।
(২) অক্সিনের ক্রিয়া অন্ধকারে ভালো হয়।
১৬. জিব্বেরেলিনের প্রধান কাজ কী ?
উঃ- জিব্বেরেলিনের প্রধান কাজগুলি হল খর্বাকার উদ্ভিদের বৃদ্ধি, কাক্ষিক মুকুলের পরিস্ফুটন এবং বীজের সুপ্ত অবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করা।
১৭. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কাকে বলে ?
উঃ- যে স্থির ক্ষরিত বস্তু নালিপথের মাধ্যমে বাইরে আসে না, সরাসরি রক্তে মিশে যায়, তাকে অন্তঃক্ষরা বা অনাল গ্রন্থি বলে। যেমন পিটুইটারি, থাইরয়েড।
১৮. হরমোন উৎপাদক গ্রন্থিকে অনাল গ্রন্থি বলে কেন ?
উঃ- হরমোন উৎপাদক গ্রন্থির কোনো নালি থাকে না, ফলে এই গ্রন্থির ক্ষরিত রস (হরমোন) গ্রন্থিকলার বাইরে আসতে পারে তাই হরমোন উৎপাদক গ্রন্থিকে অনাল গ্রন্থি বলে।
১৯. প্রাণী হরমোনের ধর্ম কীরূপ ?
উঃ- হরমোন প্রোটিনধর্মী বা স্টেরয়েডধর্মী বা অ্যামাইনোধর্মী।
২০. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অপর নাম কী ?
উঃ- অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অপর নাম সুপ্ৰারেনাল গ্রন্থি। এটি বুকের ওপর অবস্থিত।
২১. হাইপো ও হাইপারগ্লাইসিমিয়া কাকে বলে ?
উঃ- রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক অপেক্ষা কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসিমিয়া এবং শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি হলে তাকে হাইপারগ্লাইসিমিয়া বলে।
২২. কখন মূত্রের সঙ্গে শর্করা নির্গত হয় ? ওই অবস্থাকে কী বলে ?
উঃ- যখন ১০০ সিসি রক্তে শর্করার পরিমাণ ১৮০ মিগ্রা হয়, তখন মূত্রের সঙ্গে শর্করা নির্গত হয় ওই অবস্থাকে গ্লুকোসুরিয়া বলে।
২৩. নিওপ্লুকোজেনেসিস বা গ্লুকোনিওজেনেসিস কাকে বলে ?
উঃ- করা ছাড়া প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি উপাদান থেকে গ্লাইকোজেন বা গ্লুকোজ উৎপাদনকে নিওপ্লুকোজেনেসিস বা গ্লুকোনিওজেনেসিস বলে।
২৪. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলার কারণ কী?
উঃ- অগ্ন্যাশয় সনাল ও অনাল উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় একে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।
২৫. অ্যাড্রিনালিনের উৎস ও কাজ উল্লেখ করো?
উঃ- অ্যাড্রিনালিন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির মেডালা থেকে নিঃসৃত হয়। খাড়া হতে সাহায্য করে। এই হরমোন অণুর গ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের রোম খাড়া হতে সাহায্য কর।
২৬. শুক্রাশয় কোথায় অবস্থিত ?
উঃ- শুক্রাশয় পুরুষ মানুষের দেহগহ্বরের বাইরে ফ্লোটাম নামক থলির মধ্যে অবস্থিত।
২৭. ADH-এর পুরো নাম উৎস ও কাজ কি?
উঃ- ADH- এর পুরো নাম অ্যান্টি ডাইইউরেটিক হরমোন। এর উৎস পিটুইটারির পশ্চাদভাগ। এটি বৃক্কীয় নালির পুনঃশোষণে। সহায়তা করে।
২৮. মিশ্র স্নায়ু কাকে বলে ?
উঃ- যে স্নায়ু সেনসরি ও মোটর উভয় নিউরোন দিয়ে গঠিত, তাকে মিশ্র স্নায়ু বলে। যেমন—ভেগাস স্নায়ু ।
২৯. স্নায়ুর কাজ কী ?
উঃ- স্নায়ুর কাজ হল-
(১) রিসেপটর বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরণ করা।
(২) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সাড়াকে কারক অঙ্গে প্রেরণ করা ।
৩০. সহযোগী নিউরোন কাকে বলে?
উঃ- যে নিউরোন সেনসরি ও মোটর নিউরোনের মধ্যে সংযোগসাধন করে, তাকে সহযোগী নিউরোন বলে। এই প্রকার নিউরোন কেবল সুষুম্নাকাণ্ডে থাকে।
৩১. অ্যাক্সন হিলক কাকে বলে ?
উঃ- অ্যাক্সনটি কোশদেহের যে অংশে সংযুক্ত থাকে সেই অংশটিকে অ্যাক্সন হিলক বলে। এই অংশে মায়েলিন সিদ এবং নিউরিলেমা থাকে না ।
৩২. অ্যাক্সনের আবরণীগুলি কী কী ?
উঃ- অ্যাক্সনের আবরণীগুলি হল—অ্যাক্সোলেমা, মায়েলিন সিদ বা মেডুলারি আবরণ এবং নিউরিলেমা ।
৩৩. স্নায়ুগ্রন্থি কাকে বলে ?
উঃ- কয়েকটি স্নায়ুকোশের কোশদেহগুলি মিলিত হয়ে যে গ্রন্থি গঠন করে, তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বলে । স্নায়ু সৃষ্টি করা এর প্রধান কাজ ।
৩৪. স্নায়ুসন্ধির কাজ কী?
উঃ- পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে স্নায়ু-সংবেদকে পরবর্তী নিউরোনে পৌছে দেওয়া স্নায়ুসন্ধির কাজ।
৩৫ সহজাত ও অভ্যাসমূলক প্রতিবর্ত বলতে কী বোঝো?
উঃ- যেসব প্রতিবর্ত বংশগত সূত্রে পূর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত, তাদের সহজাত প্রতিবর্ত এবং যেসব প্রতিবর্ত জন্মের পর অনুশীলন বা অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাকে অভ্যাসমূলক প্রতিবর্ত বলে
৩৬. গুরুমস্তিষ্কের কাজ কী ?
উঃ- গুরুমস্তিষ্ক প্রাণীদের বুদ্ধি, চিন্তা, স্মৃতি, দর্শন, ঘ্রাণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে ।
৩৭. সুষুম্নাশীৰ্ষকের কাজ কী ?
উঃ- সুষুম্নাশীর্ষক প্রাণীদের হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, ঘাম নিঃসরণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে ।
৩৮. করপাস ক্যালোসাম কাকে বলে ?
উঃ- গুরুমস্তিষ্কের গোলার্ধদ্বয় যে স্নায়ু-যোজক দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাকে করপাস ক্যালোসাম বলে ।
৩৯. কোল্যাটারাল কাকে বলে ?
উঃ- অ্যাক্সনের র্যানভিয়ারের পর্ব থেকে অনেক সময় সূক্ষ্ম শাখা নির্গত হয়, অ্যাক্সনের এরূপ শাখাকে কোল্যাটারাল বলে ।
৪০. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।
উঃ- (১) চোখে তীব্র আলো পড়লে তারারন্ধ্র সংকুচিত হয়।
(২) খাদ্যের দর্শনে বা ঘ্রাণে লালা নিঃসরণ হওয়া।
৪১. জন্মগত প্রতিবর্ত কাকে বলে ?
উঃ- যে সব প্রতিবর্ত পুর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত এবং কোনো শর্তের অধীন নয়, তাদের জন্মগত প্রতিবর্ত বলে। যেমন- জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর স্তনপানের ইচ্ছা ।
৪২. জ্ঞানেন্দ্রিয় কাকে বলে?
উঃ- প্রাণীদের যে সব গ্রাহক অঙ্গ পরিবেশ থেকে বিশেষ বিশেষ উদ্দীপনা গ্রহণ করে নির্দিষ্ট স্নায়ুর মাধ্যমে স্নায়বিক কেন্দ্রে পাঠিয়ে সেখানকার নির্দেশ পালন করে, তাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে ।
৪৩. চক্ষুর প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী ?
উঃ- চক্ষুর প্রতিসারক মাধ্যমগুলি হল— কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স, ভিট্রিয়াস হিউমর ।
৪৪. অশ্রুতে কী এনজাইম থাকে ?
উঃ- অশ্রুতে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে। এই এনজাইম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
৪৫. রেটিনা কাকে বলে ?
উঃ- অক্ষিগোলকের একেবারে ভিতরের দিকে অবস্থিত স্নায়ুকোশ দিয়ে গঠিত স্তরটিকে রেটিনা বলে। রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
৪৬. দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে ?
উঃ- যখন দুটি চোখ দিয়ে একসঙ্গে একই বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখা যায় তাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে। যেমন- মানুষ, পেঁচা ইত্যাদি।
৪৭. মায়োপিয়া কাকে বলে?
উঃ- যে দৃষ্টিতে দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, কিন্তু নিকটের দৃষ্টি ঠিক থাকে তাকে মায়োপিয়া বলে ।
৪৮. কীভাবে মায়োপিয়া ত্রুটি দূর করা যায়?
উঃ- অবতল লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে এই ত্রুটি দূর হয় ।
৪৯. প্রেসবায়োপিয়া কাকে বলে ?
উঃ- ৪০ বছর এবং তার বেশি বয়সের লোকদের লেন্স এর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাছের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখতে পায় না।
৫০. কীভাবে প্রেসবায়োপিয়া ত্রুটি দূর করা যেতে পারে ?
উঃ- বাইফোকাল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করলে এই ত্রুটি দূর হয় ।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "'জীবন বিজ্ঞান' জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়:(Control and coordination in the living world)."