'জীবন বিজ্ঞান' জীবনের প্রবাহমানতা:(Flow of life).
১. DNA-এর সম্পূর্ণ নাম কি?
উঃ- DNA-এর সম্পূর্ণ নাম হল ডি-অক্সিরাইবাে নিউক্লিক অ্যাসিড।
২. কোন্ বিজ্ঞানী ‘জিন’ নামকরণ করেন ?
উঃ- বিজ্ঞানী জোহানসেন ‘জিন’ নামকরণ করেন।
৩. উদ্ভিদের সস্য নিউক্লিয়াসে কয়টি ক্রোমােজোম সেট থাকে?
উঃ- তিনটি (ট্রিপ্লয়েড, 3n) ক্রোমােজোম সেট উদ্ভিদের সস্য নিউক্লিয়াসে থাকে।
৪. মানুষের দেহে অটোজোমের সংখ্যা কটি ?
উঃ- মানুষের দেহে অটোজোমের সংখ্যা হল ২২ জোড়া (৪৪টি)।
৫. মানুষের সেক্স ক্রোমােজোমের সংখ্যা কত?
উঃ- মানুষের সেক্স ক্রোমােজামের সংখ্যা হল ২টি।
৬. কোন্ প্রকার কোশ বিভাজনে ‘বেম’ বা ‘স্পিন্ডল’ গঠিত হয় না?
উঃ- অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনেবেম’ বা ‘স্পিন্ডল’ গঠিত হয় না।
৭. প্রাণীকোশের বিভাজন মাকুর মেরু সৃষ্টিতে কোন্ কোশ অঙ্গাণু অংশগ্রহণ করে?
উঃ- প্রাণীকোশের বিভাজন মাকুর সৃষ্টিতে সেন্ট্রোজোম অংশগ্রহণ করে।
৮. মাইটোসিসের কোন্ দশায় নিউক্লিও পর্দা ও নিউক্লিওলাস অবলুপ্ত হয় ?
উঃ- মাইটোসিসের প্রফেজ দশায় নিউক্লিও পর্দা ও নিউক্লিওলাস অবলুপ্ত হয়।
৯. মিয়ােসিস কোশ বিভাজনে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ডাংশের বিনিময়কে কী বলে?
উঃ- মিয়ােসিস কোষ বিভাজনে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ড্যাংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
১০. একই ক্রোমােজোমের দুটি ক্রোমাটিডকে কী বলে?
উঃ- সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
১১. কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমােজোমগুলি কোশের কোন্ অঞলে সজ্জিত থাকে?
উঃ- কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমােজোমগুলি কোশের বিষুব অঞ্চলে সজ্জিত থাকে।
১২. কোশ বিভাজনের কোন্ জাতীয় বিভাজনের সময় সেলপ্লেট’ বা ‘কোশপাত’ গঠিত হয়?
উঃ- কোশ বিভাজনের সাইটোকাইনেসিসের সময় ‘সেলপ্লেট’ বা ‘কোশপাত’ গঠিত হয়।
১৩. বিকাশ কী ধরনের পরিবর্তন?
উঃ- বিকাশ হল পরিমানগত ও গুণগত পরিবর্তন।
১৪. স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না কেন?
উঃ- স্নায়ুকোশের সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির হওয়ায় স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না।
১৫. একটি ট্রিপ্লয়েড কোশের উদাহরণ দাও।
উঃ- গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সস্য নিউক্লিয়াস (3n)।
১৬. কোন্ দশায় ক্রোমােজোমগুলি বেমের দুটি বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে?
উঃ- অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমােজোমগুলি বেমের দুটি বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে।
১৭. পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে কোন্ কোন্ প্রাণীর জনন সম্পন্ন হয়?
উঃ- হাইড্রা, প্ল্যানেরিয়া ইত্যাদি প্রাণীর পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে জনন সম্পন্ন হয়।
১৮. অ্যামিবা কোন্ পদ্ধতিতে বংশবিস্তার সম্পন্ন করে ?
উঃ- দ্বি-বিভাজন পদ্ধতিতে অ্যামিবা বংশবিস্তার সম্পন্ন করে।
১৯. কোন্ কোন্ প্রাণী অযৌন জননপদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে?
উঃ- ফিতাকৃমি, হাইড্রা ইত্যাদি প্রাণী অযৌন জনন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার সম্পন্ন করে।
২০. কনজুগেশন পদ্ধতিতে কোন্ উদ্ভিদ যৌন জনন সম্পন্ন করে ?
উঃ- স্পাইরােগাইরা নামক উদ্ভিদ কনজুগেশন পদ্ধতিতে যৌন জনন সম্পন্ন করে।
২১. চলরেণু কোথায় দেখা যায়?
উঃ- ইউলােথ্রিক্স-এ দেখা যায়।
২২. অচলরেণু কোথায় দেখা যায় ?
উঃ- মিউকর-এ দেখা যায়।
২৩. পতঙ্গপরাগী ফুল কাকে বলে?
উঃ- পরাগরেণু বিভিন্ন পতঙ্গ দ্বারা বাহিত হয়ে পরাগযােগ ঘটায়। এই ধরনের ফুলকে পতঙ্গপরাগী ফুল বলে। যেমন—আম।
২৪. মিয়ােসিস কোথায় ঘটে?
উঃ- উদ্ভিদদেহে :- রেণু মাতৃকোশ এবং নিম্নশ্রেণির লিঙ্গধর উদ্ভিদের জাইগােটে।
প্রাণীদেহে :- জনন মাতৃকোশ (স্পার্মাটোগােনিয়াম ও উগােনিয়াম)।
২৫. সাইন্যাপসিস কী?
উঃ- মিয়ােসিস-এর প্রথম প্রােফেজের জাইগােটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমােজোম দুটি (একটি পিতৃ ও একটি মাতৃ ক্রোমােজোম) পাশাপাশি এসে জোড় বাঁধে। পারস্পরিক আকর্ষণের প্রভাবে এই জোড় বাঁধার ঘটনাকে স্যাইন্যাপসিস বলে।
২৬. সেন্ট্রোমিয়ারের দুটি কাজ লেখাে।
উঃ- (ক) ক্রোমােজোমের দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রাখে। (খ) কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমােজোমগুলিকে বেম তন্তুর সাথে যুক্ত করে।
২৭. NOR অলটি কোথায় দেখা যায় ? এর কাজ কী?
উঃ- NOR (Nucleolar Organizing Region) ক্রোমােজোমের গৌণ খাঁজে দেখা যায়।
NOR অংশে কোশ বিভাজনের টেলােফেজ দশায় নিউক্লিওলাম পুনর্গঠিত হয়।
২৮. কাইনেটোকোর কাকে বলে? এর কাজ লেখাে?
উঃ- ক্রোমােজোমের মুখ্য খাঁজে সেন্ট্রোমিয়ারের উভয় পাশে প্রােটিন নির্মিত যে চাকতির মতাে অংশ থাকে, তাকে কাইনেটোকোর বলে।
এর কাজ—কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমােজোম কাইনেটোকোরের সাহায্যে বেমতন্তুর সঙ্গে যুক্ত হয়।
২৯. সপুষ্পক উদ্ভিদের কোন অংশে মিয়ােসিস ঘটে?
উঃ- সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানীতে পুংরেণু মাতৃকোশে এবং ডিম্বকে স্ত্রীরেণু মাতৃকোশে মিয়ােসিস ঘটে।
৩০. অযৌন জনন কাকে বলে?
উঃ- যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই দেহকোশের মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বা রেণু সৃষ্টির সাহায্যে অপত্য জীব তৈরি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।
৩১. গেমা কী?
উঃ- নিম্নশ্রেণির অপুষ্পক উদ্ভিদে থ্যালাস দেহে উৎপন্ন বিশেষ ধরনের অঙ্গজ জনন অঙ্গকে গেমা বলে।
৩২. স্টক কী?
উঃ- কৃত্রিম অঙ্গজ জনন পদ্ধতিতে জোড় কলমের জন্য অনুন্নত প্রকৃতির রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতাযুক্ত, মূলসহ যে চারাগাছ নির্বাচিত করা হয়, তাকে স্টক বলা হয় ।
৩৩. সিয়ন কী?
উঃ-উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত যে উদ্ভিদের শাখা বা মুকুল নির্বাচন করা হয় তাকে সিনয় বলে।
৩৪. ডিপ্লোবায়ােন্টিক জনুক্রম বলতে কী বােঝাে?
উঃ- যে জনুক্রমে হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর ও ডিপ্লয়েড রেণুধর জনু দুটিই প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ তাকে ডিপ্লোবায়ােন্টিক জনুক্রম বলে।
উদাহরণ—এক্টোকারপাস, ড্রায়ােপটেরিস প্রভৃতি উদ্ভিদে ডিপ্লোবায়ােন্টিক জনুক্রম দেখা যায়।
৩৫. একলিঙ্গ ফুল কাকে বলে?
উঃ- যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রী স্তবকের মধ্যে যে কোনাে একটি উপস্থিত থাকে, তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে। একলিঙ্গ ফুল কেবলমাত্র পুংস্তবক যুক্ত হলে তাকে পুরুষ ফুল ও স্ত্রীস্তবকযুক্ত হলে তাকে স্ত্রী ফুল বলে।
উদাহরণ—লাউ, কুমড়াে, পেঁপে ইত্যাদি।
৩৬. উভলিঙ্গ ফুল কাকে বলে?
উঃ- যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রী স্তবক উভয়েই উপস্থিত থাকে তাকে উভলিঙ্গ ফুল বলে।
উদাহরণ—জবা, ধুতুরা প্রভৃতি ফুল।
৩৭. পুষ্পপুট বা পেরিয়ান্থ কাকে বলে?
উঃ- কোনাে কোনাে ফুলের বৃতি ও দলমণ্ডল মিলিতভাবে যে বিশেষ স্তবক গঠন করে তাকে পুষ্পপুট বা পেরিয়ান্থ বলে।
৩৮.পুষ্পপুট কয় প্রকার?
উঃ- পুষ্পপুট দুই প্রকার—
(ক) বৃতিসদৃশ।
উদাহরণ—সুপারি, নারকেল।
(খ) দলসদৃশ।
উদাহরণ—কলাবতী, লিলি, রজনিগন্ধা প্রভৃতি।
৩৯. দ্বিনিষেক বলতে কী বােঝাে?
উঃ- গুপ্তবীজী উদ্ভিদে একটি পুংগ্যামেট (n) দ্বারা ডিম্বাণুর (n) এবং অপর পুংগ্যামেট (n) দ্বারা নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) নিষিক্তকরণকে ছিনিষেক বলে।
৪০. স্বপরাগযােগ বলিতে কী বােঝাে?
উঃ- যখন একটি ফুলের পরাগধানীতে উৎপন্ন পরাগ রেণু সেই ফুলের গর্ভমুণ্ডে বা একই উদ্ভিদের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়ে পরাগ যােগ ঘটায়, তখন তাকে স্বপরাগযােগ বলে। সাধারণত উভলিঙ্গ ফুলে স্বপরাগ যােগ হয়। যেমন—জবা।
৪১. জীবদেহের বৃদ্ধির হারগুলিকে কতভাগে ভাগ করা হয়েছে?
উঃ- জীবদেহের বৃদ্ধির হারগুলিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা— (ক) ল্যাগ পিরিয়ড—এই সময় বৃদ্ধি মন্থর গতিতে চলে।
(খ) প্রস্তুতি পর্ব—এই সময় বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি চলতে থাকে ও ধীরে ধীরে বৃদ্ধির হার বাড়তে থাকে।
(গ) মুখ্যবৃদ্ধিকাল—এই পর্যায়ে বৃদ্ধি খুব দ্রুত লয়ে চলতে থাকে।
(ঘ) হ্রাসকাল—এই দশায় বৃদ্ধির হার হ্রাস পেতে থাকে এবং অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়।
৪২. যৌন জননের দুটি সুবিধা ও দুটি অসুবিধা উল্লেখ করাে?
উঃ- যৌন জননের দুটি সুবিধা হল–
(ক) যৌন জননের মাধ্যমে পিতামাতার বহু গুণাবলি সন্তান-সন্ততির মধ্যে সারিত হয়, ফলে তারা সহজেই নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
(খ) যৌনজননের মাধ্যমে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যাবলি সন্তান-সন্ততির মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ার ফলে পুরুষানুক্রমে বংশের ধারা অক্ষুন্ন রাখে।
যৌন জননের দুটি অসুবিধা হল-
(ক) এটি ধীর গতির প্রক্রিয়া তাই যৌন জননের মাধ্যমে বংশবিস্তারের জন্য বেশিমাত্রায় সময় ব্যয়িত হয়।
(খ) এই পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল ও অসংখ্য গ্যামেটের অপচয় ঘটে, ফলে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা কম থাকে।
৪৩. সমসংস্থ ক্রোমােজোম কাকে বলে?
উঃ- যৌনজননকারী জীবের কোশে ক্রোমােজোমগুলি জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে। এদের একটি পিতৃ ক্রোমােজোম, অপরটি মাতৃক্রোমােজোম। সমপ্রকৃতিসম্পন্ন এই ক্রোমােজোম জোড়ার প্রতিটিকে অপরের সমসংস্থ ক্রোমােজোম বলে।
৪৪. বৃদ্ধি ও বিকাশ বলিতে কী বােঝায়?
উঃ- বৃদ্ধি :- জীবকোশের প্রােটোপ্লাজম সংশ্লেষণের ফলে যে প্রক্রিয়ায় জীবের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজনের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, তাকে বৃদ্ধি বলে।
বিকাশ :- বৃদ্ধির যে পর্যায়ে একটি কোশ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট বহুকোশী জীবদেহে গঠিত হয়, তখন তাকে বিকাশ বা পরিস্ফুরণ বলে।
৪৫. বায়ুপরাগী ফুলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি গুলি কি কি?
উঃ- যে সব ফুলের শুকনাে ও হালকা পরাগরেণু বাতাসে ভেসে অন্য ফুলের দীর্ঘ ও পক্ষল গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তাকে বায়ুপরাগী ফুল ও এই পরাগ যােগকে বায়ু পরাগী বলে।
বায়ু পরাগী ফুলের প্রধান বৈশিষ্ট্য:-
(ক) পরাগরেণুগুলি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, হালকা, মসৃণ ও পাউডারের মতাে হয়, যাতে সহজেই বাতাসে ভাসতে পারে।
(খ) বায়ুর দ্বারা বাহিত হওয়ার সময় প্রচুর সংখ্যক পরাগরেণু অপচয় হয় বলে এই প্রকার ফুলে প্রচুর পরিমাণে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।
(গ) অনেক সময় পরাগরেণু পক্ষলযুক্ত (পাইন) হয়। ফলে বাতাসে ভেসে স্থানান্তরিত হতে পারে। উদাহরণ—পাইন, ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ফুল বায়ু পরাগী।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "'জীবন বিজ্ঞান' জীবনের প্রবাহমানতা:(Flow of life)."