উদ্ভিদ ও প্রাণীর রেচন: (Excretion of plants and animals).
১. রেচন কাকে বলে?
উঃ- বিপাকজাত দূষিত পদার্থ গুলিকে বিশেষ কৌশলে দেহ থেকে বের করে দেওয়ার পদ্ধতিকে রেচন বলে।
২. শর্করা ও ফ্যাট বিপাকের ফলে কি সৃষ্টি হয়?
উঃ- কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস।
৩. প্রোটিন বিপাক এর ফলে কি সৃষ্টি হয়?
উঃ- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড।
৪. বর্জন কাকে বলে?
উঃ- বিপাকীয় দূষিত পদার্থ ছাড়া দেহের উৎপন্ন অপর কোন বস্তু থেকে নির্গত হওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় বর্জন।
৫. ক্ষরণ কাকে বলে?
উঃ- বিপাক যত প্রয়োজনীয় বস্তুর গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হওয়ার পদ্ধতিকে ক্ষরণ বলে।
৬. নাইট্রোজেন যুক্ত উদ্ভিদ রেচন পদার্থ গুলি কি কি?
উঃ- কুইনাইন, নিকোটিন, ডাটুরিন, রেসারপিন।
৭. নাইট্রোজেন যুক্ত প্রাণী রেচন পদার্থ গুলি কি কি?
উঃ- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিন, ক্রিয়েটিনিন।
৮. নাইট্রোজেন বিহীন উদ্ভিদ রেচন পদার্থ গুলি কি কি?
উঃ- গঁদ, রজন, তরুক্ষীর, ধাতব কেলাস।
৯. নাইট্রোজেন বিহীন প্রাণীর রেচন পদার্থ গুলি কি কি?
উঃ- কিটোন বডি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
১০. কার্বনযুক্ত উদ্ভিদ রেচন পদার্থ কি কি?
উঃ- ট্যানিন।
১১. কার্বনযুক্ত প্রাণীর রেচন পদার্থ গুলি কি কি?
উঃ- কার্বন ডাই অক্সাইড।
১২. মেরুদন্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গের নাম কি?
উঃ- বৃক্ক বা কিডনি।
১৩. কয়েকটি প্রাণীর রেচন অঙ্গ:
উঃ- চ্যাপ্টা কৃমি----শিখা কোষ বা ফ্লেম কোষ।
কেঁচো, জোক-------------নেফ্রিডিয়া।
আরশোলা, ফড়িং---- ম্যালপিজিয়ান নালিকা।
চিংড়ি------------------ সবুজ গ্রন্থি।
কাঁকড়া বিছে------------কক্সাল গ্রন্থি।
১৪. রাফাইড কাকে বলে?
উঃ- ওল কচু ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কেলাস গুলি ছুঁচের গোছার মত হয়, এদের রাফাইড বলে।
১৫. সিস্টোলিথ কাকে বলে?
উঃ- বট ও রবার গাছের ক্যালসিয়াম কার্বনেট এর কেলাস গুলি আঙ্গুর ফলের থোকার মতো হয়, এদের সিস্টোলিথ বলে।
১৬. লিথোসিস্ট কাকে বলে?
উঃ- সিস্টোলিথ যুক্ত কোষকে লিথোসিস্ট বলে।
১৭. ধুনো কোথা থেকে পাওয়া যায়?
উঃ- শাল গাছের আঠা থেকে ধুনা পাওয়া যায়।
১৮. তরুক্ষীর কাকে বলে?
উঃ- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড, পাতা ইত্যাদির ক্ষীর কলাতে যে নাইট্রোজেনবিহীন অবদ্রব সঞ্জিত থাকে এবং উদ্ভিদের আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দিয়ে ক্ষরিত হয় তাকে তরুক্ষীর বলে।
১৯. উপক্ষার কাকে বলে?
উঃ- উদ্ভিদের নাইট্রোজেন ঘটিত রেচন পদার্থ গুলি কে একত্রে উপক্ষার বলে।
২০. উদ্ভিদের নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থের উৎস এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
• কুইনাইন
উৎস: সিঙ্কোনা গাছের বাকল।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• রেসারপিন
উৎস: সর্পগন্ধা গাছের মূল।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• ডাটুরিন
উৎস: ধুতুরা গাছের পাতা এবং ফুল।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: হাঁপানির ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• নিকোটিন
উৎস: তামাক গাছের পাতা।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: মাদক দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• স্ট্রিকনিন
উৎস: নাক্সভোমিকা বা কুঁচেলা গাছের বীজ।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: পেটের পীড়ার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• মরফিন
উৎস: আফিং গাছের কাঁচা ফলের ত্বক।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: ব্যাথা বেদনার উপশম এবং গাঢ় নিদ্রার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• ক্যাফিন
উৎস: কফি গাছের বীজ।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: ব্যাথা বেদনার উপশমকারী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২১. উদ্ভিদের নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থের উৎস এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
উঃ-
• গঁদ বা গাম
উৎস: বাবলা, জিওল, শিমূল, শিরিষ প্রভৃতি গাছের বাকল বা ছাল।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বই বাঁধাই শিল্পে, কাষ্ঠ শিল্পে ও জুতা তৈরি ও মেরামতির কাজে গঁদ বা গাম আঠা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কর্পূর, পায়েস, মিষ্টান্ন ইত্যাদি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়।
• রজন বা রেজিন
উৎস: পাইন গাছের কান্ডের রজন নালী, শাল গাছের বাকল বা ছাল এর মধ্যে ধুনা থাকে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: গালা, টারপেনটাইন কাঠে রং করতে বা পালিশ করতে ব্যবহৃত হয়। ধুনা, পূজা পার্বণ এ ব্যবহৃত হয়। হিং, মিষ্টান্ন, পায়েস তৈরিতে ও মশলা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স
উৎস: রবার, পেঁপে, বট, আকন্দ, ফণিমনসা, করবী, কাঁঠাল, মনসা ইত্যাদি গাছের কান্ড এবং পাতার তরুক্ষীর নালী।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: রবার গাছের তরুক্ষীর থেকে বাণিজ্যিক রবার প্রস্তুত হয়। পেঁপে গাছের তরুক্ষীর এ অবস্থিত প্যাপাইন প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে।
উঃ-
২২. প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বৃক্কের ওজন কত?
উঃ- ১৫০ গ্রাম।
২৩. প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকের বৃক্কের ওজন কত?
উঃ- ১৩৫ গ্রাম।
২৪. হাইলাম কাকে বলে?
উঃ- বৃক্কের অবতল অংশের খাঁজটিকে হাইলাম বলে।
২৫. জন্ডিস রোগ কি কারনে হয়?
উঃ- রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে জন্ডিস রোগ হয়।
২৬. কার্টেক্স কাকে বলে?
উঃ- বৃক্কের অন্তঃগঠন এর দুটি স্তর থাকে বাইরের স্তরটি কে কার্টেক্স কাকে বলে।
২৭. মেডালা কাকে বলে?
উঃ- বৃক্কের অন্তঃগঠন এর ভিতরে স্তরকে মেডালা বলে।
২৮. বৃক্কের একক কি?
উঃ- নেফ্রন।
২৯. নেফ্রন এর কয়টি অংশ?
উঃ- দুটি অংশ, যথা- ম্যালপিজিয়ান কর্পাস, বৃক্কীয় নালিকা বা রেনাল টিউবিউল।
৩০. ম্যাকুলা ভেনসা কাকে বলে?
উঃ- দূরবর্তী সংবর্ত নালিকার যে অংশে অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ধমনিকার সংস্পর্শে থাকে, এই অংশের নালিকার কোষগুলিকে সাধারণত আণুবীক্ষণিক যন্ত্রে কালচে রঙের দেখায়, এই অঞ্চলেম্যাকুলা ভেনসা বলে?
৩১. প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রত্যহ মুত্রের পরিমাণ কত?
উঃ- প্রায় দেড় থেকে দুই লিটার।
৩২. রজন কয় প্রকারের এবং কি কি?
উঃ- রজন তিন প্রকারের যথা, কঠিন রজন, ওলিও রজন এবং গঁদ রজন।
৩৩. কোন গাছের তরুক্ষীর থেকে বাণিজ্যিক রবার প্রস্তুত হয়?
উঃ- Hevea brasiliensis নামের প্যারা রবার গাছের তরুক্ষীর থেকে বাণিজ্যিক রবার প্রস্তুত হয়।
৩৪. উদ্ভিদের একটি নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থের নাম লেখ যা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
উঃ- রেসারপিন, এটি সর্পগন্ধা গাছের মূল থেকে পাওয়া যায় একটি নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ, এটি উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৩৫. রজন বা রেজিন এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
উঃ- গালা, টারপেনটাইন কাঠে রং করতে বা পালিশ করতে ব্যবহৃত হয়। ধুনা, পূজা পার্বণ এ ব্যবহৃত হয়। হিং, মিষ্টান্ন, পায়েস তৈরিতে ও মশলা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৩৬. উদ্ভিদের একটি নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থের নাম লেখ যা ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
উঃ- কুইনাইন, এটি সিঙ্কোনা গাছের বাকল থেকে পাওয়া যায় একটি নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ, এটি ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৩৭. উদ্ভিদ দেহ থেকে কীভাবে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স এর নিঃসরণ ঘটে?
উঃ- প্রাকৃতিক ভাবে বা আঘাতজনিত কারণে উদ্ভিদের কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে সেই অংশ থেকে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স এর নিঃসরণ ঘটে।
৩৮. সাদা জলের মতো তরুক্ষীর কোন উদ্ভিদে দেখতে পাওয়া যায়?
উঃ- সাদা জলের মতো তরুক্ষীর কলা, তামাক উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়।
৩৯. তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স উদ্ভিদ দেহের কোন অংশে সঞ্চিত থাকে?
উঃ- তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স উদ্ভিদের দীর্ঘ তরুক্ষীর কোষ এবং তরুক্ষীর নালীতে সঞ্চিত থাকে।
৪০. পেঁপে গাছের তরুক্ষীর এ কোন উৎসেচক থাকে?
উঃ- পেঁপে গাছের তরুক্ষীর এ প্যাপাইন (Papine) নামের উৎসেচক থাকে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "উদ্ভিদ ও প্রাণীর রেচন: (Excretion of plants and animals)."