'জীবন বিজ্ঞান' উদ্ভিদ ভাইরাস ও প্রাণী ভাইরাস: (Plant and animal viruses).

. ভাইরাস কথার অর্থ কি?

 উঃ- ভাইরাস কথার অর্থ হল 'বিষ'।

২. ভাইরাস কে আবিষ্কার করেন?

উঃ- বিজ্ঞানী জেনার।

৩. উদ্ভিদ ভাইরাস কে আবিষ্কার করেন?

উঃ- বিজ্ঞানী স্ট্যানলি।

৪. ভাইরাস কাকে বলে?

উঃ- ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃশ্যমান নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত, অকোষীয়, রোগ সৃষ্টিকারী, সূক্ষাতিসূক্ষ জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের বস্তুকে ভাইরাস বলে।

৫. ভাইরাসের কয়টি দশা দেখতে পাওয়া যায়?

উঃ- ভাইরাসের দুটি দশা দেখতে পাওয়া যায়, যথা- বহিঃকোষীয় দশা ও অন্তঃকোষীয় দশা।

৬. ভাইরাস অকোষীয় কেন?

উঃ- ভাইরাসের দেহে সাইটোপ্লাজম ও কোষ অঙ্গাণু, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না তাই এরা অকোষীয়।

৭. DNA যুক্ত একটি উদ্ভিদ ভাইরাসের নাম লেখ?

উঃ- ফুলকপির মোজাইক ভাইরাস।

৮. DNA যুক্ত প্রাণী ভাইরাস গুলির নাম লেখ?

উঃ- বসন্ত ভাইরাস হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, হার্পিস ভাইরাস।

৯. RNA যুক্ত উদ্ভিদ ভাইরাস গুলির নাম লেখ?

উঃ- টোবাকো মোজাইক ভাইরাস, পি মোজাইক ভাইরাস, বিন মোজাইক ভাইরাস।

১০. RNA যুক্ত প্রাণী ভাইরাস গুলির নাম লেখ?

উঃ- পোলিও ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, HIV ভাইরাস, হাম ভাইরাস, মাম্পস ভাইরাস।

১১. ছোট ভাইরাসের নাম কি?

উঃ- রাইনো ভাইরাস।

১২. বড়ো ভাইরাসের নাম কি?

উঃ- বসন্ত ভাইরাস।

১৩. ক্যাপসিড কাকে বলে?

উঃ- ভাইরাসের বাইরের প্রোটিনের আবরণকে ক্যাপসিড বলে।

১৪. ভাইরাস জিনোম কাকে বলে?

উঃ- ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিড কে ভাইরাস জিনোম বলে।

১৫. ভিরিয়ন কাকে বলে?

উঃ- সংক্রমণ যোগ্য ভাইরাস এককে ভিরিয়ন বলে।

১৬. ফাজ ভাইরাস কি ধরনের ভাইরাস?

উঃ- ফাজ ভাইরাস ক্যাপসিড যুক্ত ভাইরাস।

১৭. ভাইরয়েড কাকে বলে?

উঃ- ক্যাপসিড বিহীন ভাইরাসকে ভাইরয়েড বলে।

১৮. লিপো ভাইরাস কাকে বলে?

উঃ- এনভেলোপ যুক্ত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলে।

১৯. ব্যাকটেরিওফাজ কাকে বলে?

উঃ- যেসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটিরিয়ার দেহে বংশ বিস্তার করে এবং ধ্বংস করে তাকে ব্যাকটেরিওফাজ বলে।

২০. রোগ সংক্রমণকারী ভাইরাস কাকে বলে?

উঃ- যেসব ভাইরাস নানাভাবে আমাদের দেহে তথা প্রাণী দেহে রোগ সংক্রমণ ঘটায় তাকে প্যাথোজেনিক ভাইরাস বা রোগ সংক্রমণকারী ভাইরাস বলে।

২১. কতকগুলি রোগ সংক্রমণকারী ভাইরাসের নাম লেখ?

উঃ- ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, HIV ভাইরাস পোলিও ভাইরাস, বসন্ত ভাইরাস।

২২. HIV এর পুরো কথা কি?

উঃ- HUMAN IMMUNO DEFICIENCY VIRUS.

২৩. HIV কোন রোগ সৃষ্টি করে?

উঃ- AIDS.

২৪. AIDS পুরো কথা কি?

উঃ- ACQUIRED IMMUNO DEFICIENCY SYNDROME.

২৫. পোলিও ভ্যাকসিন প্রথম কে প্রস্তুত করেন?

উঃ- জোনাস শক।

২৬. OPV এর পুরো কথা কি?

উঃ- ORAL POLIO VACCINE.

২৭. OPV কারা প্রস্তুত করেন?

উঃ- স্যাবিন ও তার সহযোগীরা।

২৮. পোলিও ভাইরাস কি রোগ সৃষ্টি করে?

উঃ- পোলিও রোগ সৃষ্টি করে।

২৯. একটি উপকারী ভাইরাসের নাম লেখ?

উঃ- ব্যাকটেরিওফাজ।

৩০. নিপা ভাইরাস কী ?

উঃ- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এর মতে নিপা ভাইরাস (NiV)সংক্রমণ এক নতুন ধরনের zoonosis প্রকৃতির ভাইরাস সংক্রমণ যা মানব শরীরে নানান গুরুতর শ্বাসজনিত মারন রোগ থেকে ক্ষতিকর এনসেফাইলাইটিস রোগের সৃষ্টি করছে । এ হল এমন ধরনের রোগ যা পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে।প্রধানত বাদুর জাতীয় পশুর থেকেই ছড়ায়। নিপা অপেক্ষাকৃত নতুন ভাইরাস যা অতি সহজেই বাদুর জাতীয় তৃণভোজী প্রাণীর থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। শুধুমাত্র বাদুর নয়, নিপা শূকরের বর্জ থেকেও ছড়ায়। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাস আক্রান্ত মানুষ বা পশুর জন্য কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। আর তাই একমাত্র প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে উপযুক্ত চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে রোগীদের বাঁচানো সম্ভব।

সাধারণত এই ভাইরাসের প্রাথমিক বাহক হিসাবে শুকরকে চিহ্নিত করেছেন WHO । তবে ফল ভক্ষনকারী বাদুড়েরাও এই ভাইরাস বহন করতে পারে। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার নিপাতে প্রথম এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। সেখানে বাড়ির পোষ্য কুকুর, বেড়াল, ঘোড়া, ছাগলের দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সেই সময় মালয়েশিয়ার আচেহ প্রদেশের নিপা গ্রামে শূকর পালকদের মধ্যে এ ভাইরাসজনিত রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়। মালয়েশিয়ায় শূকর থেকে মানুষের শরীরে নিপা ভাইরাসজনিত রোগ সংক্রমিত হয়েছিল। গ্রামটির নামানুসারেই রোগটির নাম দেওয়া হয় নিপা ভাইরাস। বাংলাদেশেও বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েকবার তা মহামারী আকার ধারণ করেছিল।

৩১. নিপা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায় ?

উঃ- শীতকালে যখন খেজুরগাছ কেটে তাতে রাতে হাঁড়ি বেঁধে রস সংগ্রহ করা হয় তখন হাঁড়ি থেকে রাতে বাদুড়ও রস পান করে থাকে। এ সময় বাদুড়ের লালা থেকে নিপা ভাইরাস হাঁড়ির রসে চলে যায়। বাদুড়ের প্রস্র্রাব দিয়েও খেজুরের রস সংক্রমিত হতে পারে। এ ছাড়া গাছে বাদুড়ে খাওয়া ফলেও নিপা ভাইরাস প্রবেশ করে। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব দিয়ে সংক্রমিত খেজুরের রস কিংবা বাদুড়ে খাওয়া ফলমূল খেলে নিপা ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ।

৩২. নিপা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ কী ?

যে সমস্ত অভিজ্ঞ ডাক্তারেরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সাথে যুক্ত তারা জানাচ্ছেন, বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমণ সম্ভব নয়, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসলে তখনই সংক্রমণ সম্ভব।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আপনার যেসমস্ত শারীরিক অসুস্থতা দেখা যাবে সেগুলি হল মাথাধরা, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি করা, ঝিমুনি এবং অস্বাভাবিক আচরণ করা। যা এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।যদি কোন ব্যক্তির এইসব শারীরিক অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে তাহলে তাদের খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারদেরপরামর্শ নেওয়া উচিত এবং বাড়াবাড়ি হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ নিপা ভাইরাস খুব তাড়াতাড়ি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুবই মারণ তার সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত এই রোগের চিকিত্সা বাজারে আসেনি। ফলে, এর প্রকোপ সেভাবে আটকানো সম্ভব হয় না।

৩৩. নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে কি করণীয়?

উঃ- এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে রোগ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে তা মূলত রোগীদের দেহের তরলের মাধ্যমে ঘটছে। তাই এই রোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে গেলে রোগীদের সংস্পর্শে একদম আসা যাবে না।আর যদি আসেন তাহলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং জীবাণুনাশক সাবান বা তরল দিয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে প্রতিবার।

গাছের পাকা বা কাঁচা ফল যা পাখিতে কেটেছে তা একদম না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ডাক্তারেরা। কারণ এক্ষেত্রে সেই ফল বাদুড় দ্বারা ভক্ষিত হতে পারে।

৩৪. করোনাভাইরাস কী?

উঃ- COVID-19 - CO-এর অর্থ করোনা (Corona), V-এর অর্থ ভাইরাস (Virus) আর D-এর অর্থ ডিজিজ (disease)। 2019 novel coronavirus-ই হল COVID-19। মারাত্মক সংক্রামক এই রোগ। ভাইরাস পরিবারের নয়া সদস্য এই করোনাভাইরাস।

৩৫.COVID-19 কিভাবে ছড়ায় ?

উঃ- মানুষ থেকে মানুষেই ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। COVID-19 ভাইরাসে আক্রান্ত কারও হাঁচি বা কাশির সময়ে মুখ যদি না ঢাকেন তাহলে হাঁচি-কাশির সেই ছিটেফোঁটা থেকে ওই জায়গায় উপস্থিত কারও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে।

গবেষকদের পরামর্শ, এই রোগের লক্ষণ ধরা পড়ার আগেই অন্য কারও শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে COVID-19 ভাইরাস।

৩৬. করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গুলো কি কি?

উঃ- জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে যায় বলে মনে করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হালকা ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু করে মৃত্যুর সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "'জীবন বিজ্ঞান' উদ্ভিদ ভাইরাস ও প্রাণী ভাইরাস: (Plant and animal viruses)."