দারিদ্র ও বেকারত্বের শ্রেণীবিভাগ: (Classification of poverty and unemployment).
• prverty gap index (PGI) কি?
দারিদ্রসীমা ও দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী সমস্ত পরিবারের মোটা এর পার্থক্য কে নির্দেশ করে। এটিকে দারিদ্র্যসীমার শতাংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। এটি দারিদ্র্যের প্রাবল্য নির্দেশ করে। PGI কে (Foster Greer Thorbecke) FGT Index ও বলা হয়।
• Squared Proverty Gap Index (SPGI) কি?
দারিদ্র্যসীমার সাপেক্ষে এটি Poverty Gap -এর বর্গের গড়। এটি দারিদ্র্যের প্রাবল্যের সঙ্গে সঙ্গে ধনীদের তুলনার দারিদ্র্যের পরিস্থিতি বৈষম্য ও নির্দেশ করে।
• দারিদ্র্যের শ্রেণীবিভাগ:-
চরম দারিদ্র্য:- দরিদ্র মানুষ যারা তাদের জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে অসমর্থ।
আপেক্ষিক দারিদ্র্য:- সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ভুক্ত মানুষের মধ্যে আয় বণ্টনের বিষয়টি বিচার করা হয় এবং তাদের আয়ের এর তুলনা করা হয়।
দারিদ্র পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতি:-
• মাথা গণনা পদ্ধতি (Head Count Rating Method).
কোন দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে দরিদ্র জনসাধারণের অনুপাত এই পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে দারিদ্রসীমা বা দারিদ্র্য রেখা নির্ধারণ করা হয় এবং সেই সীমার নিচে কতজন আছে তার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
• মাথাপিছু ভোগের পরিমাণ ভিত্তিক পদ্ধতি (Per Capita Consumption Method).
এই পদ্ধতিতে মাথাপিছু ভোগের পরিমাণের ভিত্তিতে দারিদ্র্য সীমা নির্ধারণ করা হয়। কোন ব্যক্তির স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সর্বনিম্ন কত ক্যালরি প্রোটিন ও ভিটামিন প্রয়োজন তার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
• আয় বৈষম্যভিত্তিক পদ্ধতি (income distribution based process).
এই পদ্ধতি অনুযায়ী যে ব্যাক্তি আয় খুব কম এবং এই আয়ের নিচে ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারেনা তাকে দারিদ্র্য বলে গণ্য করা হয়।
বেকারত্বের শ্রেণীবিভাগ:-
• স্বেচ্ছাকৃত বেকারত্ব ( Voluntary Unemployment):
প্রচলিত মজুরির হারে যারা কাজ করতে চায় না তাদের স্বেচ্ছাকৃত বেকার বলা হয়। এক্ষেত্রে বাজারে কাজ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি কাজ করতে ইচ্ছুক নয়।
• অনিচ্ছাকৃত বেকারত্ব ( Involuntary Unemployment):
প্রচলিত ও মজুরির হারে যারা কাজ করতে চাই কিন্তু কাজ পায়না তাদের অনিচ্ছাকৃত বেকার বলা হয়। এই অনিচ্ছাকৃত বেকারত্বকে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় সেগুলি হল-
- বাণিজ্য চক্র জনিত বেকারত্ব ( Cyclical Unemployment):
কোন দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। এই বাণিজ্য চক্রের আবর্তনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পে কখনো তেজিভাব আবার কখনো মন্দাভাব লক্ষ্য করা যায়। বাণিজ্য চক্র যখন তেজিভাব থাকে তখন বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে যখন বাণিজ্য চক্র মন্দাভাব দেখা যায় তখন উৎপাদন হ্রাস পায় এবং কর্মসংস্থান হাস পায়। এইভাবে মন্দা অবস্থায় সময় যে বেকারত্ব সৃষ্টি হয় তাকে বাণিজ্য চক্র জনিত বেকারত্ব বলা হয়।
- প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব ( Disguised Unemployment):
ভারতের মতো স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে কৃষিক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত শ্রমের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় কৃষিক্ষেত্রে থেকে কিছু লোক সরিয়ে নিলেও কৃষি উৎপাদনের কোন পরিবর্তন হয়না। অর্থাৎ আপাতদৃষ্টিতে এদের কর্মে নিযুক্ত বলে মনে হল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এদের কোন ভূমিকা থাকে না। এদের প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব বলা হয়।
- কাঠামো জনিত বেকারত্ব ( Structural Unemployment):
নতুন প্রযুক্তি, যন্ত্রের প্রবর্তন, পুরাতন শিল্পীর ইত্যাদি কারণে কর্মসংস্থান হাস পাওয়ার ফলে যে বেকারত্ব দেখা দেয় তাকে কাঠামো জনিত বেকারত্ব বলা হয়।
- দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্ব (Secular Unemployment):
জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন না ঘটায় জনসাধারণের একটি অংশ উৎপাদন বা সেবামূলক কাজে যুক্ত না থেকে বেকার হয়ে থাকলে তাকে দীর্ঘ মেয়াদী বেকারত্ব করা হয়।
- মরসুমি বেকারত্ব (Seasonal Unemployment):
অনেক কর্ম ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সময়ে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয় কিন্তু সেই সময় ছাড়া অন্য সময় তাদের কাছ থাকে না। ফলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বেকার সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই ধরনের বেকারত্বকে মরসুমি বেকারত্ব বলা হয়। ভারতে কৃষি ক্ষেত্র, পাটকল, চিনিকল পরবর্তী ক্ষেত্রে এইরূপ বেকারত্ব লক্ষ্য করা যায়।
- সংঘাতজনিত বেকারত্ব (Frictional Unemployment):
উৎপাদনের উপাদান যেমন যন্ত্রপাতি বিকল হলে, কাঁচামালের অভাবে উত্পাদনপ্রণালী বন্ধ হলে যে বেকারত্ব সৃষ্টি হয় তাকে সংঘাত জনিত বেকারত্ব বলা হয়।
- শিক্ষিত বেকারত্ব (Educated Unemployment):
যারা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছেন এবং কায়িক পরিশ্রম ছাড়া ও পেশাগত কাজ পছন্দ করে অথচ কাজ পায় না তাকে শিক্ষিত বেকারত্ব বলে।
ভারতে বেকারত্বের হিসাব:-
১৯৭০ সালে ভারতে প্রথম বিভক্তির নেতৃত্বে গঠিত বেকারত্ব সম্পর্কে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৭৩ সালে এই কমিটি তার রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্ট অনুযায়ী সপ্তাহে যারা ১৪ ঘন্টার কম কাজ করে তাদের বেকার বলে গণ্য করা হয়। বর্তমানে বেকারত্ব নির্ধারণ ও তথ্য প্রদান সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম পালন করেন National Sample Survey Organisation (NSSO).
NSSO বেকারত্ব সম্পর্কে তিনটি ধারণা উপস্থিত করে-
- স্বাভাবিক পদমর্যাদায় বেকারত্ব:- যে সমস্ত ব্যক্তি এক বছর বা তার বেশি সময় বেকার থাকে তাদের স্বাভাবিক পদমর্যাদায় বেকারত্ব বলা হয়। এটি দীর্ঘকালীন বেকারত্ব।
- চলতি সাপ্তাহিক পদমর্যাদায় বেকারত্ব:- যে সকল ব্যক্তি এক সপ্তাহে এক ঘন্টার জন্য কাজ পায়না তাদের চলতি সাপ্তাহিক পদমর্যাদায় বেকারত্ব বলে।
- চলতি দৈনিক পদমর্যাদায় বেকারত্ব:- প্রতি সপ্তাহে কর্মহীন শ্রমদিবস ও প্রতি সপ্তাহে মোট শ্রমদিবস এর অনুপাতের মাধ্যমে এই বেকারত্ব হিসাব করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "দারিদ্র ও বেকারত্বের শ্রেণীবিভাগ: (Classification of poverty and unemployment)."