পশ্চিমী ঝঞ্ঝা | পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণ ও ফলাফল।
শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত দুর্বল ঘূর্ণবাতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে হালকা বৃষ্টিপাত এবং পার্বত্য অঞ্চল সমূহে তুষারপাত হওয়ার ঘটনাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা পশ্চিমী ঝামেলা বলা হয়। পশ্চিম দিক থেকে আগত ঘূর্ণবাতের প্রভাবে শীতকালীন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিঘ্নিত হয় বলেই এর নাম পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা পশ্চিমী ঝামেলা। এই পশ্চিমীঝঞ্ঝার প্রভাবে হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয় এবং শীতকালীন তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়।
পশ্চিমী ঝঞ্জার কারণ:
- শীতকালে বায়ুচাপ বলয় দক্ষিণে সরে যায়, ফলে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল পশ্চিমাবায়ু বলয়ের অন্তর্ভুক্তি হয়।
- ফলাফল সরূপ ভূমধ্যসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ পশ্চিমা বায়ু এই প্রবেশ করে ও গভীর নিন্মচাপের সৃষ্টি হয়।
- কোন কোন সময় এই নিন্মচাপ উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশ, বিহার, এবং পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- ক্রমশ এই নিন্মচাপ ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করে।
- ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে জম্বু ও কাশ্মীরে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত এবং পাঞ্জাব-হরিয়ানায় বৃষ্টিপাত ঘটে।
- এই রূপ ঘূর্ণাবর্তকে পশ্চিমী ঝঞ্জা / পশ্চিমী ঝামেলা বলে।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলাফল:
- পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা অঞ্চলে বছরে দু বার বৃষ্টিপাত হয়।
- এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে কখনও কখনও উত্তরপ্রদেশ, বিহার, এবং পশ্চিমবঙ্গে শীতকালে স্বল্প পরিমানে বৃষ্টিপাত হয়।
- পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলে হওয়া বৃষ্টিপাত রবি ফসল, যেমন গমের জন্য উপকারী হয়।
- পশ্চিমা ঝঞ্ঝার ফলে আকাশ মেঘলা ও রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং বৃষ্টিপাতের মত ঘটনা ঘটে।
- মাঝেমধ্যে ঘন কুয়াশার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে যা উত্তর ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাতকে আরও তীব্র করতে সামান্য ভূমিকা পালন করে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "পশ্চিমী ঝঞ্ঝা | পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণ ও ফলাফল।"