ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা: (Land revenue system of India during the East India Company period).
১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন। এই সময় ছিল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলা দারুন ভাবে বিপদগ্রস্ত। হেস্টিংস সেই সময়কার নায়েব রেজা খাঁ ও সিতাব রায় কে পদচ্যুত করে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার পরবর্তী গভর্নর লর্ড কর্নওয়ালিস নতুন ভূমি ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
ভারতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তত্ত্বাবধানে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা চারটি ভাগ ছিল। যথা :-
- বাংলা প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা।
- রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত।
- মহলওয়ারি বন্দোবস্ত।
- ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত।
👉পাঁচশালা বন্দোবস্ত :-
- ওয়ারেন হেস্টিং রাজস্ব আদায়ের জন্য ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে একটি ভ্রাম্যমাণ কমিটি গঠন করেন।
- যে ইজারাদার কোম্পানিকে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব দিতে রাজি হতো
- এই ভ্রাম্যমাণ কমিটি তাকে পাঁচ বছরের জন্য জমি বন্দোবস্ত প্রদান করতেন এবং কোন জমিদার সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব দিতে অক্ষম হলে তিনি জমিদারি হারাতেন।
- এই ব্যবস্থা ইজারাদার ব্যবস্থা বা পাঁচশালা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে ভ্রাম্যমাণ কমিটি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে
- এই কমিটি বাতিল করে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব বোর্ড গঠন করেন।
👉একশালা বন্দোবস্ত :-
ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার পাঁচশালা বন্দোবস্তের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়।
যার উদ্দেশ্যে ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে পাঁচশালা বন্দোবস্ত বাতিল করে নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রচলন করেন যা একশালা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
এই ব্যবস্থা অনুসারে :-
- প্রতি বছর পুরনো জমিদারদের জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে।
- বিগত তিন বছরের রাজস্বের গড় অনুসারে এই বন্দোবস্ত রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করা হতো।
- জমিদার রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হলে জমিদারের এক অংশ বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব পরিষদের নিয়ম চালু হয়।
- এই ব্যবস্থাতেও কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করার জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ভারত শাসন আইন পাস হয়।
- এই আইন অনুসারে জমিদারকে স্থায়ীভাবে জমি প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।
👉দশশালা বন্দোবস্ত (1789 – 93):-
- ১৭৮৪ তে পিটের ভারত শাসন আইনে ভূমি রাজস্ব সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর হয়।
- ১৭৮৬ গভর্নর জেনারেল কর্নওয়ালিশ এদেশে আসেন ও ১৭৮৯ তে তিনি জমিদারদের সাথে অস্থায়ী দশশালা বন্দোবস্ত করেন।
👉চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত :-
১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিশ দশশালা বন্দোবস্ত কে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরিণত করেন।
এতে স্থির হয়-
🌍রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত
ভারতের দক্ষিণের দক্ষিণ-পশ্চিমে আলেকজান্ডার লিড ও টমাস মনরো উদ্যোগে রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত চালু করা হয় ( ১৮২০)।
এই ব্যবস্থায় সরকারের কার সাথে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়।
এতে বলা হয় কুড়ি বা ৩০ বছর অন্তর সরকার ইচ্ছে করলে রাজস্বের হার বাড়াতে পারে।
🌍মহলওয়ারি বন্দোবস্ত
গাঙ্গেয় উপত্যকা উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও মধ্য ভারতের কিছু অংশে ১৮২২ সালে মহলওয়ারি বন্দোবস্ত চালু করা হয়।
কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গড়ে তোলা হয় মহল। ৩০ বছর মেয়াদে রাজস্ব নির্ধারিত হত।
এতে জমিদার পেত ২০% ও সরকার পেত ৮০%।
🌍ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত
১৮৪৬ সাল থেকে ১৮৪৯ সালে পাঞ্জাবের প্রতিটি কৃষকের সাথে ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত প্রচলিত হয়। রাজস্ব আদায় করতেন বোড়ো চাষি।
- নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের মধ্যে ধার্য খাজনা জমা দিলে জমিদারেরা বংশানুক্রমিক ভাবে জমি ভোগ করবে।
- খাজনা চিরস্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট করা হয়।
- অতিরিক্ত অর্থ সরকার জমিদারের কাছে দাবি করবে না।
- জমিতে রাইতের অধিকার লিপিবদ্ধ করা হয়।
- জমিদাররা বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
🌍রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত
ভারতের দক্ষিণের দক্ষিণ-পশ্চিমে আলেকজান্ডার লিড ও টমাস মনরো উদ্যোগে রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত চালু করা হয় ( ১৮২০)।
এই ব্যবস্থায় সরকারের কার সাথে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়।
এতে বলা হয় কুড়ি বা ৩০ বছর অন্তর সরকার ইচ্ছে করলে রাজস্বের হার বাড়াতে পারে।
🌍মহলওয়ারি বন্দোবস্ত
গাঙ্গেয় উপত্যকা উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও মধ্য ভারতের কিছু অংশে ১৮২২ সালে মহলওয়ারি বন্দোবস্ত চালু করা হয়।
কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গড়ে তোলা হয় মহল। ৩০ বছর মেয়াদে রাজস্ব নির্ধারিত হত।
এতে জমিদার পেত ২০% ও সরকার পেত ৮০%।
🌍ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত
১৮৪৬ সাল থেকে ১৮৪৯ সালে পাঞ্জাবের প্রতিটি কৃষকের সাথে ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত প্রচলিত হয়। রাজস্ব আদায় করতেন বোড়ো চাষি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা: (Land revenue system of India during the East India Company period)."