ভারতীয় পার্লামেন্টের আইন পাশের পদ্ধতি: (Procedure for passing laws in the Indian Parliament).

ভারতীয় সংবিধানের ১০৭ থেকে ১২২ নং ধারায় পার্লামেন্টের আইন পাশের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সংসদের যেকোনো কক্ষে সাধারন বিল উত্থাপন করা যায়। কোনো কক্ষে বিল উত্থাপন করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পর্যন্ত সাতটি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়।



👉প্রথম পর্যায় :-
প্রথম পর্যায় হল বিল উত্থাপন ও বিলের প্রথম পাঠ। বিলটি লোকসভায় উত্থাপিত হলে স্পিকারের কাছে এবং রাজ্যসভায় উত্থাপিত হলে চেয়ারম্যানের কাছে অনুমতি নিয়ে উত্থাপককে সভায় বিল পেশ করতে হয়। এই পর্যায়ে শুধুমাত্র বিলে শিরোনাম পাঠ করা হয়।

👉দ্বিতীয় পর্যায় :-
বিল উত্থাপনের কয়েকদিন পর বিলের দ্বিতীয় পাঠ শুরু হয়। এই পর্যায়ে বিলটির উত্থাপক একটি প্রস্তাব পেশ করতে পারেন।
যেমন :-

  • বিলটি সভায় বিচার বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক।

  • পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটিতে বিলটি পাঠানো হোক।

  • পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের যুক্ত কমিটির কাছে বিলটি পাঠানো হোক।

  • জনসাধারনের মতামত জানার জন্য বিলটি প্রচার করা হোক।

👉তৃতীয় পর্যায় :-
তৃতীয় পর্যায়ে বিলটির সামগ্রিক বিচার বিবেচনা করা হয়। কোনো বিল সিলেক্ট কমিটির কাছে পাঠনো হলে বিলটি নিয়ে কমিটি ব্যাপক আলোচনা করতে পারে। প্রয়োজনে কমিটি বিলটির সংশোধনের প্রস্তাব রাখতে পারে।
সবশেষে কমিটি বিলটি সম্পর্কে তার সূচিন্তিত মতামত সংসদে উত্থাপন করে।

👉চতুর্থ পর্যায় :-
এই পর্যায়ে বিলটির প্রতিটি ধারা-উপধারা নিয়ে সবিস্তার আলোচনা ও তর্কবিতর্ক হয়। সভার যেকোনো সদস্য বিলটির ওপর সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারে। তর্কবিতর্ক ও ভোটাভুটির পর বিলটির দ্বিতীয় পাঠের সমাপ্তি ঘটে।

👉পঞ্চম পর্যায় :-
এই পর্যায়ে বিলের তৃতীয় পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্যায়ে বিলের ধারা-উপধারা নিয়ে আলোচনা বা তর্কবিতর্ক হয় না, এমন কি সংশোধনী প্রস্তাবও উত্থাপন করা যায় না। বিলটি গৃহীত হবে না প্রত্যাখ্যাত হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য সমর্থন করলে বিলটি গৃহীত হয়, অন্যদিকে বাতিল বলে গণ্য হয়।
বিলটি লোকসভায় গৃহীত হলে স্পিকারকে অথবা রাজ্যসভায় গৃহীত হলে চেয়ারম্যানকে সার্টিফিকেট দিতে হয়।

👉ষষ্ঠ পর্যায় :-
বিলটি যেকোনো একটি কক্ষে গৃহীত হলে অপর কক্ষে পাঠানো হয়। সেই কক্ষেও উপরিউক্ত পর্যায়গুলি অতিক্রম করতে হয়। কোনো রকম সংশোধনী ছাড়াই বিলটি গৃহীত হলে অনুমোদনের ষষ্ঠ পর্যায় শেষ হয়। অপর কক্ষ সম্মতি না দিলে বা সংশোধনের জন্য বিলটিকে ছয় মাস আটকে রাখতে পারে। কোনো বিল নিয়ে উভয় কক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশন ডাকতে পারেন।
যৌথ অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

👉সপ্তম পর্যায় :-

পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বিলটি গৃহীত হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে বিলটি আইনে পরিণত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি বিলটিকে পুনর্বিবেচনার জন্য পার্লামেন্টের কাছে ফেরৎ পাঠাতে পারেন। তবে পার্লামেন্ট পুনরায় বিলটি অনুমোদন করে পাঠালে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন। এইভাবে একটি বিল আইনে পরিণত হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "ভারতীয় পার্লামেন্টের আইন পাশের পদ্ধতি: (Procedure for passing laws in the Indian Parliament)."