ত্রিশক্তি সংগ্রামের কারণ ও ফলাফল: (The causes and consequences of the Tripartite struggle).
অষ্টম শতাব্দী থেকে পাল, গুর্জর - প্রতিহার ও দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশের মধ্যে টানা লড়াই চলেছিল। একেই 'ত্রিশক্তি সংগ্রাম' বলা হয়। প্রায় ২০০ বছর ধরে এই ত্রিশক্তি সংগ্রাম চলেছিল। হর্ষবর্ধনের রাজধানী কনৌজকে কেন্দ্র করে ত্রিশক্তি সংগ্রামের সূত্রপাত ঘটে। তাঁর মৃত্যুর পর কনৌজকে যোগ্য উত্তরাধিকারের অভাবে রাষ্ট্রকূট, পাল, গুর্জর-প্রতিহারদের মধ্যে কনৌজ দখলের সংগ্রাম শুরু হয়।
● ত্রিশক্তি সংগ্রামের কারণ:-
কনৌজ দখলের জন্য পাল, গুর্জর-প্রতিহার এবং রাষ্ট্রকূট বংশের রাজাদের মধ্যে ত্রিশক্তি সংগ্রাম হয়েছিল।
এই সংগ্রামের কারণগুলি হল—
● ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফলাফল:-
প্রায় দুশাে বছর ধরে চলা ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
এই সংগ্রামের কারণগুলি হল—
- ● সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে তার রাজধানী কনৌজ মহােদয়শ্রী’ বা শ্রেষ্ঠনগরীর মর্যাদা লাভ করেছিল। হর্ষবর্ধনের পরবর্তীকালে সেই গাঙ্গেয় উপত্যকা দখলে রাখতে পারবে।
- ● গুপ্ত সাম্রাজ্যের আগে প্রাচীন ভারতে মগধের যে মর্যাদা ছিল হর্ষবর্ধনের পতনের পর কনৌজ সেই গুরুত্ব লাভ করে। হর্ষ-পরবর্তী যুগে উত্তর ভারতের বা দক্ষিণ ভারতের সম্রাটদের কাছে কনৌজ দখল করা ছিল মর্যাদার প্রতীক।
- ● কনৌজ অঞ্চলের নদীভিত্তিক বাণিজ্য এবং খনিজ দ্রব্য ভারতীয় রাজাদের কাছে লােভনীয় ছিল। তা ছাড়া কনৌজ ছিল গাঙ্গেয় উপত্যকার কৃষি সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল। কনৌজের ভালাে অর্থনৈতিক অবস্থা ভারতীয় রাজাদের প্রলুদ্ধ করে।
● ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফলাফল:-
প্রায় দুশাে বছর ধরে চলা ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
ত্রিশক্তি সংগ্রাম পাল, প্রতিহার এবং রাষ্ট্রকুটদের মধ্যে কেউই স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রকট অধিকৃত আইন কনৌজের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
দীর্ঘকাল যুদ্ধ করার ফলে প্রতিটি রাজ্যের সামন্তরাজারা স্বাধীনতাকামী হয়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, সামরিকঅবক্ষয়, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সামন্তরাজাদের বিদ্রোহ এবং সর্বোপরি ভারতের রাজনৈতিক অনৈক্য ভারতে বৈদেশিক আক্রমণের পথ সুপ্রশস্ত করে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "ত্রিশক্তি সংগ্রামের কারণ ও ফলাফল: (The causes and consequences of the Tripartite struggle)."