জিরো আওয়ার: (Zero Hour).
পরিষদীয় কার্যপদ্ধতি - সংক্রান্ত নিয়মাবলিতে ‘জিরো আওয়ার’ বলে কোনো কথার উল্লেখ নেই। তা সত্ত্বেও পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে কিংবা রাজ্যের বিধানসভা বা বিধানমণ্ডলীতে ‘জিরো আওয়ার’ - এর প্রচলন বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। প্রতিটি আইনসভার কাজকর্মকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-
- [১] সরকারি কাজকর্ম।
- [২] বেসরকারি কাজকর্ম।
এটি দিয়েই শুরু হয় আইনসভার প্রতিটি কক্ষের কাজকর্ম। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার ঠিক পরেই শুরু হয় ‘জিরো আওয়ার’। ঘড়িতে তখন ঠিক দুপুর ১২ টা, অর্থাৎ একদিনের সমাপ্তি এবং পরবর্তী দিনের সূচনা। এই সময়টি হল শূন্য (Zero) সময় এবং এরপর থেকে পুরো ১ ঘণ্টা ধরে, অর্থাৎ ১ টা পর্যন্ত আইনসভার যে - কোনো কক্ষের কাজকর্ম চলতে থাকে বলে এই সময়টিকে ‘জিরো আওয়ার’ বলা হয়।
এরপর দুপুর ১ টার সময় মধ্যাহ্নভোজের জন্য ১ ঘণ্টা সময় সভার কাজকর্ম স্থগিত রাখা হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর শুরু হয় সরকারি কাজকর্ম।
সুভাষ কাশ্যপ ও অমিয় চৌধুরি কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, বিশ শতকের ষাটের দশকের প্রথম দিকে দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত সময়কে ‘জিরো আওয়ার’ বলে সংবাদপত্রগুলি উল্লেখ করতে থাকে এবং ওই সময় থেকেই কথাটির প্রচলন বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।
সুভাষ কাশ্যপ ও অমিয় চৌধুরি কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, বিশ শতকের ষাটের দশকের প্রথম দিকে দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত সময়কে ‘জিরো আওয়ার’ বলে সংবাদপত্রগুলি উল্লেখ করতে থাকে এবং ওই সময় থেকেই কথাটির প্রচলন বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।
জিরো আওয়ারের পদ্ধতি ও ফলাফল:
আইনসভার যে - কোনো কক্ষে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক সদস্য নিজেদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে ওঠেন এবং কোনোরকম পরিষদীয় আইন না থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কিংবা জনসাধারণের মারাত্মক অসুবিধা প্রভৃতি - সংক্রান্ত জরুরি প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট কক্ষে উত্থাপন করেন।
এরূপ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রিম নোটিশ কিংবা অধ্যক্ষ বা চেয়ারম্যানের অনুমতি নেওয়া অপেক্ষা জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁদেররয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সুভাষ কাশ্যপ বলেছেন, যেহেতু জনসাধারণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত পার্লামেন্ট হল ‘একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান’ সেহেতু যে - কোনো কক্ষের কাজকর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘নিয়মাবলির পুস্তক’ অকার্যকর হয়ে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে।
কারণ, সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য নিয়মাবলি রচিত হয়। তাই ভবিতব্য ঘটনা ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকে কোনোকিছু কল্পনা করে নিয়ে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা সেগুলির মধ্যে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া, আইনসভার সদস্যরা কক্ষের মূল্যবান সময়ের অপব্যবহার না করে যথাসম্ভব সংক্ষেপে জাতীয় স্বার্থ - সংক্রান্ত জনস্বার্থের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলি বিষয়ে সদস্যদের ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তবে একথা অস্বীকার করা যায় না যে, একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন সদস্য বলতে উঠে নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তর্কবিতর্ক চলাকালে সদস্যরা সময়ের কথা ভুলে যান। তার ফলে একদিকে যেমন কক্ষের অমূল্য সময়ের অপচয় ঘটে, অন্যদিকে তেমনি আইন সংক্রান্ত, আর্থিক ও অন্যান্য নিয়মিত কাজকর্ম ব্যাহত হয়। তা ছাড়া, কক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর কথাবার্তা কিংবা আচার - আচরণ চলাকালীন অধ্যক্ষ বা চেয়ারম্যানের পক্ষে বাকযুদ্ধরত সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এইসব কারণে কক্ষের অধ্যক্ষ বা চেয়ারম্যানেরা 'জিরো আওয়ার’ এর কর্মকাণ্ডকে আদৌ উৎসাহিত করতে চান না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা ব্যতিক্রমী চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এখানকার বিধানসভার অধ্যক্ষ ১ ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তাতে আপত্তি করেন না।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "জিরো আওয়ার: (Zero Hour)."