লোকসভার স্পিকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলী: (The Speaker of the Lok Sabha).

ভারতের সংসদীয়়় শাসন ব্যবস্থায় স্পিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যুক্তরাজ্যের কমন্স সভার অনুকরনে ভারতে লোক সভাপতি কে অধ্যক্ষ বা স্পিকার বলা হয়। জহরলাল নেহেরু মতে,"লোকসভার স্বাধীনতা ও সম্ভ্রমের পূর্ণ প্রতীক হলেন স্পিকার।"তিনি সমগ্র জাতির স্বাধীনতার পূর্ত প্রতীক হিসাবে কাজ করেন।

🌍লোকসভার স্পিকারের যোগ্যতা ও নির্বাচন:- 

  • লোকসভার অধ্যক্ষ কে অবশ্যই লোকসভার সদস্য হতে হয়।
  • নবনির্বাচিত লোকসভার প্রথম অধিবেশনে লোকসভার সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজন কে অধ্যক্ষ এবং একজনকে উপাধ্যক্ষ নির্বাচিত করেন (৯৩ নং ধারা)। 

🌍লোকসভার স্পিকারের কার্যকাল ও বেতন:- 

  • লোকসভার অধ্যক্ষ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
  •  অবশ্য কার্যকাল পরিসমাপ্তির পূূূূূূর্বেই পদত্যাগ করলে, পদচ্যুত হলে বা মৃত্যু হলে অধ্যক্ষের পদ শূন্য হতে পারে। 
  • তবে অধ্যক্ষকে অপসারণ করতে হলে লোকসভার সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত প্রস্তাবকে লোকসভায় উত্থাপিত করার জন্য ১৪ দিনের নোটিশ দিতে হয়। এই প্রস্তাব গৃহীত হলে তিনি সভার কার্য পরিচালনা করতে পারেন না। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন ও ভাষণ দিতে পারেন। 
  • তাকে ভারতের সঞ্চিত তহবিল থেকে বেতন দেওয়া হয়। 

🌍লোকসভার স্পিকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলী:- 

ভারতের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় স্পিকারের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্ডিত। তার ক্ষমতার উৎস হল ভারতের সংবিধান এবং লোকসভার কার্য পরিচালনা সংক্রান্ত বিধি। 

👉অর্থবিল সংক্রান্ত ক্ষমতা:- 

কোন বিল অর্থবিল কিনা সে বিষয়ে স্পিকারের ক্ষমতা চূড়ান্ত। তবে কোনো বিল কে অর্থবিল হিসাবে গ্রহণ করলে তাকে সে বিষয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করতে হয়। 

👉সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণ:- 

সদস্যদের বিশেষ অধিকার সমূহ রক্ষা করার দায়িত্ব অধ্যক্ষের। কোন সদস্য সদস্যকে অবমাননা করলে বা অধিকার ভঙ্গ করলে তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

👉যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা:- 

পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। তার নির্দেশ মত কার্য পরিচালনা বিষয়ে নিয়মকানুন স্থিরীকৃত ও প্রযুক্ত হয়।

👉লোকসভা ও রাস্ট্রপতির সংযোগ রক্ষা:- 

রাষ্ট্রপতির দেওয়া বাণী বক্তব্য বার্তা ইত্যাদি স্পিকার নিজে লোক সভায় উপস্থাপন করেন এবং রাষ্ট্রপতির কাছে লোকসভা বক্তব্য স্পিকারের মাধ্যমে পেশ করা হয়।

👉সংসদীয় কমিটির প্রধান হিসাবে ভূমিকা:- 

সংসদীয় কমিটির প্রধান হলেন স্পিকার। তিনি বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির প্রধান দের নিয়োগ করেন। যেমন বিধি সম্পর্কিত কমিটি, সভার কার্য পদ্ধতি সম্পর্কিত বা পরিচালনা সংক্রান্ত কমিটি। 


👉অন্যান্য ক্ষমতা:-

  • কোন সদস্য ইংরেজি বা হিন্দি  বক্তব্য দিতে না পারলে তিনি মাতৃভাষায় বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দিতে পারেন।
  • সদস্যদের নিরাপত্তা বাসস্থান সম্মান রক্ষা ইত্যাদির তিনি ব্যবস্থা করেন। 

➡️এছাড়াও কিছু অলিখিত ক্ষমতা আছে। তা হল, 

  • সুস্পষ্টভাবে সভা পরিচালনা করা স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। 
  • সভায় কোন প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে কি ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে কোন নোটিশ আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হবে কোন সংশোধনী প্রস্তাব বৈধ কিনা ইত্যাদি বিষয়ে স্পিকারের ক্ষমতা চূড়ান্ত।
  • সভায় বক্তৃতা দেওয়া ও দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য স্পিকারের অবশ্যই অনুমতি প্রয়োজন।
  • লোকসভার কোন সদস্য সভার কার্য পদ্ধতি সম্পর্কিত কোন নিয়ম কানুনের যথাযোগ্য ব্যাখ্যা প্রদানের অনুরোধ করলে অধ্যক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিমত গাপন করেন।
  • আলোচনা বন্ধের প্রস্তাব গ্রহণ করা না করার বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
  • সদস্যদের বক্তৃতা একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি অপ্রাসঙ্গিক বা অশালীন মন্তব্য এবং আপত্তিকর আচরণ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি স্পিকার বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখেন।
  • সভার সব সদস্য যেন সমান সুযোগ-সুবিধা পায় সেদিকে স্পিকার লক্ষ রাখেন।
  • লোকসভায় বিশৃংখল আচরণের জন্য যে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করেন।
  • বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সভা মুলতবি করে দিতে পারেন।
  • কোরাম সংখ্যক সদস্য সদস্য না হাজির হলে সভর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে।
  • কোন প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট হলে তিনি নির্ণয়ক ভোট দিতে পারেন।
  • সভার সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য স্পিকারের কোন সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। 

👉পদমর্যাদা:-

সংবিধান রচয়িতারা স্পিকারের পদটিকে যথেষ্ট স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে গড়ে তুলেছেন। স্পিকারের নিরপেক্ষতা বিরোধীদলকে উপযুক্ত ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়।


⭐লোকসভার স্পিকারের তালিকা:-

  • ১. গণেশ বাসুদেব মভোলঙ্কর :- (১৯৫২ –  ১৯৫৬).
  • ২. এম এ আয়াঙ্গার :- (১৯৫৬ – ১৯৬২).
  • ৩. সর্দার হুকুম সিং :- (১৯৬২ – ১৯৬৭).
  • ৪. নীলম সঞ্জীব রেড্ডি :- (১৯৬৭ – ১৯৬৯).
  • ৫. জি এস ধীলন :- (১৯৬৯ – ১৯৭৫).
  • ৬. বলিরাম ভগত :- (১৯৭৬ – ১৯৭৭).
  • ৭. নীলম সঞ্জীব রেড্ডি :- (১৯৭৭ – ১৯৭৭).
  • ৮. কে এস হেগড়ে :- (১৯৭৭ – ১৯৮০).
  • ৯. বলরাম জাখর :- (১৯৮০ – ১৯৮৯).
  • ১০. রবি রায় :- (১৯৮৯ – ১৯৯১).
  • ১১. শিবরাজ পাটিল :- (১৯৯১ – ১৯৯৬).
  • ১২. পি এ সাংমা :- (১৯৯৬ – ১৯৯৮).
  • ১৩. জি এম সি বালাযোগী :- (১৯৯৮ – ২০০২).
  • ১৪. মনোহর যোশী :- (২০০২ – ২০০৪).
  • ১৫. সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় :- (২০০৪ – ২০০৯).
  • ১৬. মীরা কুমার :- (২০০৯ – ২০১৪).
  • ১৭. সুমিত্রা মহাজন :- (২০১৪ – ২০১৯).
  • ১৮. ওম বিড়লা :- (২০১৯ - এখন পর্যন্ত).

২টি মন্তব্য for "লোকসভার স্পিকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলী: (The Speaker of the Lok Sabha)."