বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রের উপাদান | বাস্তু তন্ত্রের বৈশিষ্ট্য: (What is an Ecosystem? The elements and features of an Ecosystem).
কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে তাকেই বাস্তুতন্ত্র বলে।
অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্র হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্ত জীবন্ত জিনিস। যেমন :- উদ্ভিদ, প্রাণী এবং জীব যেখানে জীবিত প্রাণীরা একে অপরের সাথে এবং পার্শ্ববর্তী পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে। বাস্তুতন্ত্রকে বলতে পারেন জীব এবং তাদের পরিবেশের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার একটি শৃঙ্খল।🌍বাস্তুতন্ত্রের উপাদান:
বাস্তুতন্ত্রের উপাদান সমূহ-বাস্তুতন্ত্র হল প্রকৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাস্তুতন্ত্রের উদ্ভিদজগৎ ও প্রাণীজগৎ পরস্পরের সঙ্গে এবং তাদের ঘিরে যে ভৌত পরিবেশ তার সঙ্গে নিবিড় ভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের সমন্বয়ে বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠে, তাদের বাস্তুতন্ত্রের উপাদান বলে।
গঠনগত দিক বিবেচনা করে বাস্তুতন্ত্রের এই উপাদানগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
➡️জড় উপাদান :
বাস্তুতন্ত্রের যে উপাদানগুলিতে প্রাণের অস্তিত্ব নেই, সেই উপাদানগুলিকে জড় উপাদান বা অজীবজাত উপাদান বলে। এই উপাদানগুলি আবার তিন প্রকারের হয়।
যথা-
👉অজৈব উপাদান :-
বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান তথা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সালফার, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামাইনো অ্যাসিড ইত্যাদি হল বাস্তুতন্ত্রের অজৈব উপাদান। এগুলি জৈব ভূ রাসায়নিক চক্রের মাধ্যমে আবর্তিত হয়ে পরিবেশের মধ্যে তার সাম্য বজায় রাখে।
👉জৈব উপাদান :-
কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি হল বাস্তুতন্ত্রের জৈব উপাদান।এগুলি জীবজগতের জৈব রাসায়নিক গঠন রূপে জড় ও সজীব উপাদানের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে।
👉ভৌত উপাদান :-
সূর্যালোক, বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর চাপ, আদ্রর্তা, মৃত্তিকা, ভূমির ঢাল, ভূমির উচ্চতা ইত্যাদি হল বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান। এগুলি বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার চরমাবস্থা নির্ধারণ করে।
➡️সজীব উপাদান :-
বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত যেসব উপাদানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে, তাদের সজীব উপাদান বলে।
বাস্তুতন্ত্রের এই সজীব উপাদানগুলিকে পুষ্টি স্তর অনুসারে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
👉স্বভোজী উপাদান :-
বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত যে সকল জীব সৌরশক্তি শোষণ করে বিভিন্ন অজৈব উপাদান (কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন) সহযোগে নিজেদের দেহের জটিল খাদ্য প্রস্তুতিতে সক্ষম, তাদের উৎপাদক বা স্বভোজী বা অটোট্রফ বলে।
উদাহরণ :-সবুজ উদ্ভিদ, শৈবাল, সালোকসংশ্লেষ কারী ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি হল বাস্তুতন্ত্রের স্বভোজী উপাদান।
👉পরভোজী উপাদান :-
বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত যে সকল জীব নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না, খাদ্যের জন্য উৎপাদকের ওপর নির্ভরশীল তাদের পরভোজী উপাদান বা খাদক বলে।
বাস্তুরীতি বা পুষ্টিস্তর অনুসারে খাদক তিন প্রকারের হয়। যথা-
👉প্রাথমিক খাদক :-
বাস্তুতন্ত্রে যেসকল খাদক খাদ্যের জন্য সরাসরি স্বভোজী বা সবুজ উদ্ভিদদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের প্রাথমিক খাদক বলে। যেমন-গরু, ছাগল ভেড়া, ঘাসফড়িং ইত্যাদি।
👉গৌণ খাদক :-
বাস্তুতন্ত্রে যেসকল খাদক খাদ্যের জন্য প্রাথমিক খাদকদের উপর নির্ভরশীল, তাদের গৌণ খাদক বলে।যেমন- কুকুর, বিড়াল, সাপ, ব্যাংক, টিকটিকি ইত্যাদি মাংসাশী প্রাণী।
👉প্রগৌণ খাদক :-
বাস্তুতন্ত্রে যেসকল খাদক খাদ্যের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদক বা গৌণ খাদকদের উপর নির্ভরশীল, তাদের প্রগৌণ খাদক বলে।
যেমন- বাঘ, সিংহ, চিল, শকুন, শেয়াল, মাছরাঙ্গা, সাপ, মানুষ ইত্যাদি।
👉বিয়োজক :-
বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত যে সকল সজীব উপাদান মৃতজীবী অর্থাৎ যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ বিয়োজিত করে সরল রাসায়নিক যৌগে পরিবর্তন করে, তাদের বিয়োজক বা ডিকম্পোজার বলে। এরা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রোটোপ্লাজমের জটিল রাসায়নিক যৌগগুলিকে ভেঙে কিছুটা নিজেরা নিজেদের পুষ্টির জন্য ব্যবহার করে এবং অবশিষ্টাংশ অজৈব লবণ হিসাবে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়।
উদাহরণ- বিভিন্ন ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি।
🌍বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য :-
- ১. বাস্তুতন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট এলাকা আছে।
- ২. বাস্তুতন্ত্রকে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষন করা হয়।
- ৩. বাস্তুতন্ত্রের শক্তি ও পদার্থের উৎপাদন ও সরবরাহ সব সময় ক্রিয়াশীল, তাই বলা যায় এটি একটি উন্মুক্ত ব্যবস্থা।
- ৪. বাস্ততন্ত্র আকারে ছোট থেকে সুবৃহৎ হতে পারে। বড়ো বাস্তুতন্ত্রে জীব বৈচিত্র্য ছোটো বাস্তুতন্ত্র তুলনায় অনেক বেশি।
- ৫. বাস্তুতন্ত্রের শক্তির একমাত্র উৎস হল সূর্যালোক।
- ৬. বাস্তুতন্ত্র নিয়ন্ত্রনকারী উপাদান গুলি বিঘ্নিত না হলে এটি স্থায়ী ভারসাম্যের দিকে অগ্রসর হয়।
- ৭. বাস্তুতন্ত্র সুসংগঠিত ও নির্দিষ্ট কাঠামো বিশিষ্ট হয়।
- ৮. পরিবেশের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত হয়।
🌍বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর :-
১. বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি কাকে বলে?
উঃ- ইকোলজি শব্দটি গ্রীক শব্দ ‘Oikos’ থেকে এসেছে যার অর্থ বাসস্থান, ‘Logos’ শব্দটির অর্থ জ্ঞান। অর্থাৎ জীবের বাসস্থান সম্পর্কে বিশেষ বিদ্যাকেই বাস্তুবিদ্যা বলে।
২. পপুলেশন বা জীবসংখ্যা কাকে বলে?
উঃ- একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবগোষ্ঠীকে পপুলেশান বলে।
৩. জীবমণ্ডল কাকে বলে?
উঃ- প্রকৃতির সমস্ত অঞ্চল যথা – বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, অশ্মমণ্ডল যেখানে জীবের অস্তিত্ব দেখা যায় সেই সমস্ত অঞ্চলকে একত্রে জীবমণ্ডল বলে।
৪. প্ল্যাঙ্কটন কাকে বলে?
উঃ- জলের উপর বসবাসকারী ভাসমান আনুবীক্ষণিক জীবকে প্ল্যাঙ্কটন বলে। এই জীব যদি প্রাণী হয় তবে তাকে প্রাণী প্ল্যাঙ্কটন (zoo plancton) বলে এবং যদি উদ্ভিদ হয় তবে তাকে উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন (phytoplankton) বলে।
৫. স্বভোজী জীব কাকে বলে?
উঃ- যে সকল জীব প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন প্রকার খনিজ দ্রব্য ও জল আহরণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে খাদ্য প্রস্তুত করে তাদের স্বভোজী জীব বলে।
৬. খাদ্যজালিকা কাকে বলে?
উঃ- বাস্তুতন্ত্রের একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর যুক্ত হয়ে যে জালিকার গঠন করে তাকে খাদ্যজালিকা বলে।
৭. পশ্চিমবঙ্গের যে কোন দুটি অভয়ারণ্যের নাম লেখ।
উঃ- জলদাপাড়া ও গরুমারা।
৮. পশ্চিমবঙ্গের কোথায় সংরক্ষিত বন বর্তমান?
উঃ- সজনেখালিতে।
৯. খাদক কাকে বলে?
উঃ- যে সকল জীব অন্য জীবদের খেয়ে নিজেদের শক্তি সংগ্রহ করে তাদের খাদক বলে।
১০. অনবীভবনযোগ্য সম্পদ কাকে বলে?
উঃ- যে সকল সম্পদের মজুত পৃথিবীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বর্তমান এবং একবার নিঃশেষিত হলে পুনরায় প্রাপ্তি সম্ভব নয় তাদেরকে অনবীভবনযোগ্য সম্পদ বলে। যেমন কয়লা, ধাতু, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি।
১১. নেকটন কাদের বলে?
উঃ- জলে বসবাসকারী যে সকল প্রাণী সাঁতার কাটতে পারে তাদের নেকটন বলে। যেমন- মাছ ইত্যাদি।
১২. বাস্তুতন্ত্রের বৃহত্তম একক কী?
উঃ- বায়োস্ফিয়ার।
১৩. বনভূমির বৃক্ষের সবচেয়ে উপরের আবরণকে কী বলে?
উঃ- চাঁদোয়া।
১৪. বাস্তুতন্ত্রের উদ্ভিদসমূহকে কী বলা হয়?
উঃ- ফ্লোরা।
১৫. পার্মাফ্রস্ট কোথায় দেখা যায়?
উঃ- তুন্দ্রা বায়মে।
১৬. সরলবর্গীয় বৃক্ষের অপর নাম কী?
উঃ- টেগা।
১৭. পৃথিবীর মোট বনভূমির কত শতাংশ নিরক্ষীয় বন দ্বারা আবৃত?
উঃ- ৭ শতাংশ।
১৮. নিরক্ষীয় বর্ষা বনে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত?
উঃ- ২৪০-৪৩০ সেমি।
১৯. চিপকো আন্দলন কোথায় শুরু হয়?
উঃ- উত্তরপ্রদেশে।
২০. উত্তর আমেরিকার তৃণভূমির নাম কী?
উঃ- প্রেইরী।
২১. বনসংরক্ষণ আইন কবে প্রণয়ন হয়?
উঃ- ১৯৮০ সালে।
২২. বর্তমান ভারতবর্ষে অবলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা কত?
উঃ- ৪৫০ টি।
২৩. এখন ভারতবর্ষে অভয়ারণ্যের সংখ্যা কটি?
উঃ- ৪৪১ টি।
২৪. করবেট জাতীয় পার্ক কোথায় অবস্থিত?
উঃ- উত্তরপ্রদেশে।
২৫. পশ্চিমবঙ্গের কোথায় গণ্ডার পাওয়া যায়?
উঃ- জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে।
২৬. গ্রেট ইণ্ডিয়ান বাস্টার্ড পাখি ভারতের কোন রাজ্যে দেখা যায়?
উঃ- গুজরাটে।
২৭. ভারতের অবলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের নাম যে বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে সেই বইয়ের নাম কী?
উঃ- রেড ডাটা বুক।
২৮. বন্দিপুর জাতীয় পার্ক কোন রাজ্যে অবস্থিত?
উঃ- কর্ণাটকে।
২৯. ভারতের বৃহত্তম পক্ষী অভয়ারণ্য কোথায় অবস্থিত?
উঃ- ঘানা (রাজস্থান)।
৩০. ভারতে কোথায় সিংহ দেখা যায়?
উঃ- গুজরাটের গির অভয়ারণ্যে।
৩১ ভারতে কোথায় গণ্ডার দেখা যায়?
উঃ- আসামের কাজিরাঙ্গা অভয়ারণ্যে।
৩২. পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি অভয়ারণ্যের নাম লেখ।
উঃ- বেথুয়াডহরী।
৩৩. পশ্চিমবঙ্গের বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কোথায় অবস্থিত?
উঃ- সুন্দরবনে।
৩৪. ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক রামসার কনভেনশান অনুষ্ঠিত হয় কী জন্য?
উঃ- জলাভূমি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য।
৩৫. ইকোলজি শব্দটির সংজ্ঞা কে প্রদান করেন?
উঃ- আর্নেস্ট হেক্কেল।
৩৬. ইকোসিস্টেম শব্দটির কে প্রবর্তন করেন?
উঃ- আর্থার ট্যান্সলে।
৩৭. সাভানা কী?
উঃ- নিরক্ষীয় অঞ্চলের তৃণভূমি।
৩৮. পরাশ্রয়ী অর্কিড উদ্ভিদ কোথায় দেখা যায়?
উঃ- নিরক্ষীয় বর্ষাবনে।
৩৯. ইকোটোন কাকে বলে?
উঃ- দুইটি বাস্তুতন্ত্রের মিলনকে।
৪০. সাইলেন্ট ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
উঃ- কেরলে।
৪১. ভারতে কোথায় একশৃঙ্গ গণ্ডার দেখা যায়?
উঃ- আসামের কাজিরাঙ্গায়।
৪২. ভারতের সর্ববৃহৎ পক্ষিরালয় কোথায় অবস্থিত?
উঃ- রাজস্থানের ভরতপুরস্থিত ঘানায়।
৪৩. খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
উঃ- খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে উৎপাদক স্তর থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্যশক্তির প্রবাহকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
৪৪. খাদ্যশৃঙ্খল কয় প্রকার ও কী কী?
উঃ- খাদ্যশৃঙ্খল দুই প্রকার। যথা– গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল ও ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল।
৪৫. গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল কী?
উঃ- যে খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক স্তর থেকে শক্তি ধাপে ধাপে তৃণভোজী ও মাংসাশী প্রাণীদের মধ্যে সংক্রমিত হয় তাকে গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল বলে। যেমন – উদ্ভিদ → হরিণ → বাঘ।
৪৬. ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
উঃ- যে খাদ্যশৃঙ্খলে বিয়োজক স্তর থেকে খাদক স্তরে ধাপে ধাপে শক্তি সঞ্চারিত হয় তাকে ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল বলে। যেমন – পচাপাতা → ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী → ছোট মাছ → বড় মাছ।
৪৭. ডেট্রিভোর কাকে বলে?
উঃ- ডেট্রিটাস বা আংশিক ভাবে বিয়োজিত জৈব পদার্থকে যে সব ছোট ছোট প্রাণী খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে তাদের ডেট্রিভোর বলে। যেমন – কেঁচো, উইপোকা।
৪৮. শক্তিপ্রবাহ কাকে বলে?
উঃ- বাস্তুতন্ত্রে সৌরশক্তি রূপান্তরিত হয়ে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হওয়াকে শক্তিপ্রবাহ বা Energy Flow বলে।
৪৯. পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
উঃ- যে খাদ্যশৃঙ্খলে খাদ্য-খাদক সম্পর্ক বৃহৎ প্রাণী থেকে শুরু হয়ে পরজীবী ক্ষুদ্র প্রাণীতে শেষ হয় তাকে পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল বলে। যেমন – কুকুর → কৃমি → বিয়োজক।
৫০. মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
উঃ- যে খাদ্যশৃঙ্খল শক্তির প্রবাহকে ভিত্তি করে মৃতজীবী বিয়োজক স্তরেই আবদ্ধ থাকে তাকে মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
৫১. কার্বন চক্র কাকে বলে?
উঃ- যে প্রক্রিয়ায় কার্বন মৌল কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস রূপে পরিবেশ থেকে জীবদেহে ও জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে কার্বনের সমতা বজায় রাখে তাকে কার্বন চক্র বলে।
৫২. নাইট্রোজেন চক্র কাকে বলে?
উঃ- যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন জীবজগতে এবং জীবজগত থেকে নাইট্রোজেন বায়ুমণ্ডলে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে নাইট্রোজেনের সমতা বজায় রাখে তাকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।
৫৩. ফসফরাস চক্র কাকে বলে?
উঃ- যে প্রক্রিয়ায় ফসফরাস মৌল পরিবেশ থকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে ফসফরাসের সমতা বজায় রাখে তাকে ফসফরাস চক্র বলে।
৫৪. অ্যামোনিফিকেশন কাকে বলে?
উঃ- যে পদ্ধতিতে মাটিতে বসবাসকারী ব্যাকটিরিয়া নাইট্রোজেন যৌগকে অ্যামোনিয়ায় পরিণত করে তাকে অ্যামোনিফিকেশন বলে।
৫৫. সালফার চক্র কাকে বলে?
উঃ- যে পদ্ধতিতে সালফার মৌল পরিবেশ থকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে সালফারের সমতা বজায় রাখে তাকে সালফার চক্র বলে।
৫৬. পরিবেশে সালফারের উপাদানগুলি কী কী?
উঃ- হাইড্রোজেন সালফাইড ও সালফার ডাই অক্সাইড।
৫৭. জলচক্র কাকে বলে?
উঃ- যে প্রাকৃতিক শক্তির বশে জল তার বিভিন্ন অবস্থায় শিলামণ্ডল, বারিমণ্ডল ও আবহমণ্ডলের মধ্যে ক্রমাগত অপরিহত অবস্থায় আবর্তিত হয়ে চলেছে, জলের সেই চক্রাকার আদান-প্রদান ব্যবস্থাকেই জলচক্র বলে।
৫৮. বায়োম কাকে বলে?
উঃ- উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ মাটি ও জলবায়ুর সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে যে বাস্তুতান্ত্রিক একক গড়ে তোলে তাকে বায়োম বলে।
৫৯. বায়োজিওগ্রাফিক্যাল প্রসেসেস বইটি কার লেখা?
উঃ- বিজ্ঞানী সিমন্স ১৯৮২ সালে বইটি লেখেন।
৬০. জিওগ্রাফি অ্যান্ড ম্যান্স এনভার্নমেন্ট বইটি কার লেখা?
উঃ- বিজ্ঞানী স্ট্র্যালার অ্যান্ড স্ট্র্যালার ১৯৭৬ সালে বইটি লেখেন।
৬১. ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস বইটি কার লেখা?
উঃ- বিজ্ঞানী জিমারম্যান ১৯৫১ সালে বইটি লেখেন।
৬২. জীবভর বা বায়োমাস কী?
উঃ- বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী জীবিত প্রাণীদের মোট ভরকে জীবভর বা বায়োমাস বলে।
৬৩. IBWL –এর পুরো নাম কী?
উঃ- Indian Board of Wild Life.
৬৪. CRYO BANK কী?
উঃ- মাইনাস (-) ১৯৬ ডিগ্রি উষ্ণতায় উদ্ভিদের কোন বিশেষ অঙ্গ, কোষ, পরাগরেণু, ভ্রুণ, শুক্রাণু, ডিম্বাণু ইত্যাদি যেখানে সংরক্ষণ করা হয় তাকে CRYO BANK বলে।
৬৫. বিয়োজক কাকে বলে?
উঃ- যারা মৃত প্রাণী ও উদ্ভিদের জৈব পদার্থকে সরলীকরণ করে পুনরায় উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য করে তোলে তাদের বিয়োজক বলে। যেমন – ব্যাকটিরিয়া।
৬৬. নেবুলা কী দিয়ে গঠিত হয়?
উঃ- গ্যাস ও ধুলোবালি দ্বারা।
৬৭. ওজন গ্যাসের আবরণ দেখা যায় বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
উঃ- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে।
৬৮. বায়ুমণ্ডলের কত উচ্চতা পর্যন্ত ট্রপোস্ফিয়ার বিস্তৃত?
উঃ- ১৫ কিমি।
৬৯. নগ্ন জিন কাকে বলা হয়?
উঃ- নিউক্লিক অ্যাসিডকে।
৭০. প্রোটিনের গঠনমূলক একক কী?
উঃ- অ্যামাইনো অ্যাসিড।
৭১. স্থলজ ও জলজ দশা দেখা যায় কোন চক্রে?
উঃ- ফসফরাস চক্রে।
৭২. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের (O2) পরিমাণ কত?
উঃ- ২০.৬০ ভাগ।
৭৩. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ কত?
উঃ- ০.০৩ ভাগ।
৭৪. শিলামণ্ডলের উপরিভাগ প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
উঃ- সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম।
৭৫. উত্তপ্ত তরল স্যুপ মতবাদটি কে প্রদান করেন?
উঃ- বিজ্ঞানী হ্যালডেন।
৭৬. জীবদেহের কোন অনুগুলি আত্মপ্রতিলিপি গঠনে সক্ষম?
উঃ- DNA ও RAN।
৭৭ দুটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখ যারা প্রোটিন ভেঙে প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত করে?
উঃ- ইশ্চেরিশিয়া এবং প্রোটিয়াস।
৭৮. FAO-এর পুরো নাম কী?
উঃ- Food and Agricultural Organization.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রের উপাদান | বাস্তু তন্ত্রের বৈশিষ্ট্য: (What is an Ecosystem? The elements and features of an Ecosystem)."