মুলতুবি প্রস্তাব: (Adjournment Motion).
ভারতে সাধারণভাবে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইনসভার প্রতিটি কক্ষের কাজকর্ম আলোচ্য বিষয়সূচি অনুযায়ীই সম্পাদিত হয়। যেসব বিষয় ওই বিষয়সূচির অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলিকে উত্থাপন করার জন্য অধ্যক্ষ বা চেয়ারম্যানের অনুমতি একান্তভাবেই অপরিহার্য। তবে অধ্যক্ষের অনুমতিক্রমে লোকসভা কিংবা বিধানসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম মুলতুবি রেখে বিশেষ জরুরি ও জনস্বার্থের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যেসব প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, সেগুলিকে মুলতুবি প্রস্তাব বলা হয়।
সাধারণ প্রস্তাব কিংবা সিদ্ধান্তসূচক প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য যে - সময় ব্যয়িত হয়, বিশেষ জরুরি সাম্প্রতিক কোনো জনস্বার্থমূলক বিষয়ে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রস্তাব উত্থাপন করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তার ফলে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি দেশ ও দেশবাসীর অপরিমেয় ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই এরূপ প্রস্তাবকে সুভাষ কাশ্যপ এমন ‘একটি অস্বাভাবিক পদ্ধতি' বলে চিহ্নিত করেছেন, যা ‘জনস্বার্থের দিক থেকে জরুরি একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়' আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কক্ষের সাধারণ কাজকর্মকে মুলতুবি বা স্থগিত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।মুলতুবি প্রস্তাবের অপরিহার্য উপাদানসমূহ:
মুলতুবি প্রস্তাবের কয়েকটি অপরিহার্য উপাদান রয়েছে। এগুলি হল—
[১] প্রস্তাবে উত্থাপিত বিষয়টিকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
[২] বিষয়টির বাস্তব ভিত্তি থাকবে।
[৩] প্রস্তাবের বিচার্য বিষয়টিকে অতি অবশ্যই জরুরি প্রকৃতিসম্পন্ন হতে হবে।
[৪] এটি অতি অবশ্যই জনস্বার্থের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এইসব উপাদানের নিরিখে বিচার করলে দেশের সাধারণ রাজনৈতিক অবস্থা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বেকারত্ব, রেলওয়ে ও বিমান দুর্ঘটনা, কলকারখানা বন্ধের ঘটনা প্রভৃতি মুলতুবি প্রস্তাবের বিষয় বলে বিবেচিত হতে পারে না।
অনুরূপভাবে, পরিবহণযোগ্য গাড়ির অভাব, অপহরণ, ডাকাতি, বিস্ফোরণ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রভৃতির মতো বিষয়কেও এরূপ প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত করা সংগত নয় বলে সুভাষ কাশ্যপ মন্তব্য করেছেন।
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপনের শর্তাবলি:
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, সেগুলি হল—
[১] অধিবেশন চলাকালে একদিনে একাধিক মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করা যায় না।
[২] বিশেষাধিকার - সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন এরূপ প্রস্তাবের মধ্যে থাকবে না।
[৩] একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব ( a distinct motion ) হিসেবে কক্ষের কার্যপদ্ধতির নিয়মানুযায়ী উত্থাপন করা যায় , এরূপ কোনো প্রস্তাবকে মুলতুবি প্রস্তাব হিসেবে উত্থাপন করা যাবে না।
[৪] আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কোনো বিষয় (sub - judice) এরূপ প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
[৫] চলতি অধিবেশনে আলোচনার জন্য ইতিপূর্বে লিপিবদ্ধ কোনো বিষয় নিয়ে এরূপ প্রস্তাব তোলা যাবে না।
[৬] চলতি অধিবেশনে ইতিপূর্বে আলোচিত কোনো বিষয় নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করা যায় না।
তবে ভারত সরকারের আচরণ কিংবা ত্রুটিবিচ্যুতির সঙ্গে অবশ্যই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো বিষয় নিয়ে এরূপ প্রস্তাব উত্থাপন করা যায়। কিন্তু কোনো রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত হলেও সেখানকার সাংবিধানিক ঘটনাবলি কিংবা তপশিলি জাতি, উপজাতি ও সমাজের দুর্বলতর অংশের মানুষের সঙ্গে নৃশংস আচরণ করা হলে সেই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেটিকে মুলতুবি প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
উদাহরণ, হিসেবে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘কালো টাকার ওপর ও ২০১২ সালের আগস্ট মাসে অসমে বাংলাদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হলেও সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার ওপর উত্থাপিত দুটি মলতুবি প্রস্তাব কিংবা জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর টহল দেওয়ার সময় পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আক্রমণে ৫ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার ওপর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে উত্থাপিত মুলতুবি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন পদ্ধতি:
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করতে ইচ্ছুক সদস্য যেদিন তা করতে চান, সেইদিন বেলা ১০ টার মধ্যে তাঁকে লোকসভা বা বিধানসভার অধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সাধারণ সচিব—এঁদের প্রত্যেকের কাছে পৃথক পৃথকভাবে নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের একটি প্রতিলিপি জমা দিতে হয়। যদি ১০ টার পরে এই - সংক্রান্ত কোনো নোটিশ জমা পড়ে, তাহলে তা পরের দিন উত্থাপনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। অধ্যক্ষ যদি মনে করেন যে, সংশ্লিষ্ট কক্ষের নিয়মানুযায়ী প্রস্তাবটি রচিত হয়েছে, তাহলে তা উত্থাপনের জন্য তিনি সম্মতি দেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরেই তিনি মুলতুবি প্রস্তাবের উত্থাপককে প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্দেশ্যে সভার অনুমতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। আলোচনার জন্য প্রস্তাব গ্রহণের ব্যাপারে আপত্তি উঠলে লোকসভার বা বিধানসভার অধ্যক্ষ প্রস্তাব সমর্থনকারী সদস্যদের নিজ নিজ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াবার জন্য অনুরোধ জানান। লোকসভার ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ জন এবং বিধানসভার ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ জন সদস্য উঠে দাঁড়ালে সংশ্লিষ্ট কক্ষে আলোচনার জন্য প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে বলে অধ্যক্ষ ঘোষণা করেন। এরপর লোকসভার অধ্যক্ষ মুলতুবি প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। সাধারণভাবে বিকেল ৪ টা থেকে আলোচনা শুরু হয় এবং অধ্যক্ষ আলোচনার জন্য ২২ ঘণ্টা বরাদ্দ করেন। অবশ্য অনেক সময় আলোচনা তার পরেও চলতে তাকে। এরূপ ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ আলোচনা বন্ধ করতে পারেন না। কারণ, এই ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতেই অর্পিত রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ক্ষেত্রে আলোচনা বা বিতর্কের সময়সীমা ২ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কাঁরে দেওয়ার ফলে ওই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। প্রস্তাবক এবং কক্ষের অন্য সদস্যরা নিজ নিজ বক্তব্য পেশ করার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তাঁর জবাবি ভাষণ দেন।
সবশেষে মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অধিকার প্রস্তাব উত্থাপকের রয়েছে। এইভাবে আলোচনা শেষ হওয়ার পর প্রস্তাবটিকে ‘ধ্বনি ভোটে’ পেশ করা হয়। এর অর্থ — প্রস্তাবের সমর্থকরা ‘হ্যাঁ’ এবং বিরোধীরা ‘না’ বলবেন। প্রস্তাবটি ধ্বনি ভোটে বাতিল হয়ে গেছে বলে অধ্যক্ষ ঘোষণা করার পর লোকসভা বা বিধানসভায় তালিকাভুক্ত বিষয়ের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
মুলতুবি প্রস্তাবের গুরুত্ব:
লোকসভা কিংবা বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়া যথেষ্ট কষ্টকর। কারণ, যতদিন সরকার সংশ্লিষ্ট কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে, ততদিন এরূপ প্রস্তাব - সহ সরকার বিরোধী কোনো প্রস্তাবই গৃহীত হতে পারে না। তবে এরূপ প্রস্তাব গৃহীত না হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্যকে কোনোমতেই উপেক্ষা করা যায় না। বিতর্ক চলাকালে সংবাদ মাধ্যমগুলি সরকার ও বিরোধী পক্ষের বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচার করে। তার ফলে সরকারের ত্রুটি - বিচ্যুতিগুলি কিংবা অপদার্থতা সম্পর্কে জনসাধারণ সম্যকভাবে অবহিত হতে পারে। অনেক সময় সাধারণ নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আবার, মুলতুবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার অর্থই হল কার্যত সরকারকে নিন্দা করা। এর ফলে সরকারকে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে ভবিষ্যতে কাজকর্ম সম্পাদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। বিরোধীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মূলতবি পস্তার গ্রহণ বা বর্জন করার ব্যাপারে রাজ্যসভা বা বিধান পরিষদের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই।
মুলতুবি প্রস্তাবের কয়েকটি অপরিহার্য উপাদান রয়েছে। এগুলি হল—
[১] প্রস্তাবে উত্থাপিত বিষয়টিকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
[২] বিষয়টির বাস্তব ভিত্তি থাকবে।
[৩] প্রস্তাবের বিচার্য বিষয়টিকে অতি অবশ্যই জরুরি প্রকৃতিসম্পন্ন হতে হবে।
[৪] এটি অতি অবশ্যই জনস্বার্থের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এইসব উপাদানের নিরিখে বিচার করলে দেশের সাধারণ রাজনৈতিক অবস্থা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বেকারত্ব, রেলওয়ে ও বিমান দুর্ঘটনা, কলকারখানা বন্ধের ঘটনা প্রভৃতি মুলতুবি প্রস্তাবের বিষয় বলে বিবেচিত হতে পারে না।
অনুরূপভাবে, পরিবহণযোগ্য গাড়ির অভাব, অপহরণ, ডাকাতি, বিস্ফোরণ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রভৃতির মতো বিষয়কেও এরূপ প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত করা সংগত নয় বলে সুভাষ কাশ্যপ মন্তব্য করেছেন।
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপনের শর্তাবলি:
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, সেগুলি হল—
[১] অধিবেশন চলাকালে একদিনে একাধিক মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করা যায় না।
[২] বিশেষাধিকার - সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন এরূপ প্রস্তাবের মধ্যে থাকবে না।
[৩] একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব ( a distinct motion ) হিসেবে কক্ষের কার্যপদ্ধতির নিয়মানুযায়ী উত্থাপন করা যায় , এরূপ কোনো প্রস্তাবকে মুলতুবি প্রস্তাব হিসেবে উত্থাপন করা যাবে না।
[৪] আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কোনো বিষয় (sub - judice) এরূপ প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
[৫] চলতি অধিবেশনে আলোচনার জন্য ইতিপূর্বে লিপিবদ্ধ কোনো বিষয় নিয়ে এরূপ প্রস্তাব তোলা যাবে না।
[৬] চলতি অধিবেশনে ইতিপূর্বে আলোচিত কোনো বিষয় নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করা যায় না।
তবে ভারত সরকারের আচরণ কিংবা ত্রুটিবিচ্যুতির সঙ্গে অবশ্যই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো বিষয় নিয়ে এরূপ প্রস্তাব উত্থাপন করা যায়। কিন্তু কোনো রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত হলেও সেখানকার সাংবিধানিক ঘটনাবলি কিংবা তপশিলি জাতি, উপজাতি ও সমাজের দুর্বলতর অংশের মানুষের সঙ্গে নৃশংস আচরণ করা হলে সেই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেটিকে মুলতুবি প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
উদাহরণ, হিসেবে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘কালো টাকার ওপর ও ২০১২ সালের আগস্ট মাসে অসমে বাংলাদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হলেও সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার ওপর উত্থাপিত দুটি মলতুবি প্রস্তাব কিংবা জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর টহল দেওয়ার সময় পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আক্রমণে ৫ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার ওপর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে উত্থাপিত মুলতুবি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন পদ্ধতি:
মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করতে ইচ্ছুক সদস্য যেদিন তা করতে চান, সেইদিন বেলা ১০ টার মধ্যে তাঁকে লোকসভা বা বিধানসভার অধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সাধারণ সচিব—এঁদের প্রত্যেকের কাছে পৃথক পৃথকভাবে নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের একটি প্রতিলিপি জমা দিতে হয়। যদি ১০ টার পরে এই - সংক্রান্ত কোনো নোটিশ জমা পড়ে, তাহলে তা পরের দিন উত্থাপনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। অধ্যক্ষ যদি মনে করেন যে, সংশ্লিষ্ট কক্ষের নিয়মানুযায়ী প্রস্তাবটি রচিত হয়েছে, তাহলে তা উত্থাপনের জন্য তিনি সম্মতি দেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরেই তিনি মুলতুবি প্রস্তাবের উত্থাপককে প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্দেশ্যে সভার অনুমতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। আলোচনার জন্য প্রস্তাব গ্রহণের ব্যাপারে আপত্তি উঠলে লোকসভার বা বিধানসভার অধ্যক্ষ প্রস্তাব সমর্থনকারী সদস্যদের নিজ নিজ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াবার জন্য অনুরোধ জানান। লোকসভার ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ জন এবং বিধানসভার ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ জন সদস্য উঠে দাঁড়ালে সংশ্লিষ্ট কক্ষে আলোচনার জন্য প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে বলে অধ্যক্ষ ঘোষণা করেন। এরপর লোকসভার অধ্যক্ষ মুলতুবি প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। সাধারণভাবে বিকেল ৪ টা থেকে আলোচনা শুরু হয় এবং অধ্যক্ষ আলোচনার জন্য ২২ ঘণ্টা বরাদ্দ করেন। অবশ্য অনেক সময় আলোচনা তার পরেও চলতে তাকে। এরূপ ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ আলোচনা বন্ধ করতে পারেন না। কারণ, এই ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতেই অর্পিত রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ক্ষেত্রে আলোচনা বা বিতর্কের সময়সীমা ২ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কাঁরে দেওয়ার ফলে ওই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। প্রস্তাবক এবং কক্ষের অন্য সদস্যরা নিজ নিজ বক্তব্য পেশ করার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তাঁর জবাবি ভাষণ দেন।
সবশেষে মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অধিকার প্রস্তাব উত্থাপকের রয়েছে। এইভাবে আলোচনা শেষ হওয়ার পর প্রস্তাবটিকে ‘ধ্বনি ভোটে’ পেশ করা হয়। এর অর্থ — প্রস্তাবের সমর্থকরা ‘হ্যাঁ’ এবং বিরোধীরা ‘না’ বলবেন। প্রস্তাবটি ধ্বনি ভোটে বাতিল হয়ে গেছে বলে অধ্যক্ষ ঘোষণা করার পর লোকসভা বা বিধানসভায় তালিকাভুক্ত বিষয়ের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
মুলতুবি প্রস্তাবের গুরুত্ব:
লোকসভা কিংবা বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়া যথেষ্ট কষ্টকর। কারণ, যতদিন সরকার সংশ্লিষ্ট কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে, ততদিন এরূপ প্রস্তাব - সহ সরকার বিরোধী কোনো প্রস্তাবই গৃহীত হতে পারে না। তবে এরূপ প্রস্তাব গৃহীত না হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্যকে কোনোমতেই উপেক্ষা করা যায় না। বিতর্ক চলাকালে সংবাদ মাধ্যমগুলি সরকার ও বিরোধী পক্ষের বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচার করে। তার ফলে সরকারের ত্রুটি - বিচ্যুতিগুলি কিংবা অপদার্থতা সম্পর্কে জনসাধারণ সম্যকভাবে অবহিত হতে পারে। অনেক সময় সাধারণ নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আবার, মুলতুবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার অর্থই হল কার্যত সরকারকে নিন্দা করা। এর ফলে সরকারকে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে ভবিষ্যতে কাজকর্ম সম্পাদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। বিরোধীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মূলতবি পস্তার গ্রহণ বা বর্জন করার ব্যাপারে রাজ্যসভা বা বিধান পরিষদের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "মুলতুবি প্রস্তাব: (Adjournment Motion)."