ভারতের ভূপ্রকৃতি: (The topography of India).



উত্তর ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত পামীর গ্রন্থি থেকে বের হওয়া হিন্দুকুশ, সুলেমান, খিরথর কারাকোরাম, হিমালয় প্রভৃতি কয়েকটি উঁচু পর্বতশ্রেণী ভারতীয় উপমহাদেশকে এশিয়া মহাদেশের বাকি অংশ থেকে আলাদা করে রেখেছে।

ভূপ্রকৃতিগত পার্থক্য অনুসারে ভারতকে ৭টি প্রধান ভৌগলিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়। যথা:- 
[১] উত্তরের বিশাল পার্বত্য অঞ্চল।
[২] উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চল ও মেঘালয় মালভূমি।
[৩] উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমি অঞ্চল।
[৪] ভারতের বিশাল মালভূমি অঞ্চল।
[৫] ভারতের মরুভূমি অঞ্চল।
[৬] ভারতের উপকূলের সমভূমি অঞ্চল।
[৭] দ্বীপ পুঞ্জ।

[১] উত্তরের বিশাল পার্বত্য অঞ্চল :-
প্রায় নিরবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণি নিয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলটি পশ্চিমে কাশ্মীর থেকে পূর্বে অসম পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৬০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার চওড়া বিশাল এই পার্বত্য অঞ্চলটি ভারতের উত্তর সীমান্তকে প্রাচীরের মতো রক্ষা করছে।
দুটি প্রধান পর্বতশ্রেণি নিয়ে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলটি গঠিত হয়েছে —
(ক) কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি।
(খ) হিমালয় পর্বতশ্রেণি।

(ক) কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি:
এই পর্বতশ্রেণিটি পামীর মালভূমি থেকে পশ্চিমে সিন্ধু নদী পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জুড়ে অবস্থান করছে।  কারাকোরাম পর্বতশ্রেণিতে অনেকগুলো সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আছে। এই পর্বতশ্রেণির পশ্চিম অংশে অবস্থিত গডউইন অস্টিন বা K2হল ভারতের সর্বোচ্চ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ এবং এর উচ্চতা হল ৮৬১১ মিটার। মাউন্ট এভারেস্ট হল পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ, এর উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার। কারাকোরাম পর্বতে অনেকগুলো হিমবাহ দেখা যায়। এদের মধ্যে সিয়াচেন, বালটেরা, বিয়াফো, হিসপার প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সিয়াচেন ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ এর দৈর্ঘ্য ৭৬ কিমি। বালটেরা হিমবাহের দৈর্ঘ্য  ৬০ কিমি। বিয়াফো হিমবাহের দৈর্ঘ্য ৬০ কিমি এবং হিসপার হিমবাহের দৈর্ঘ্য ৬২ কিমি।

(খ) হিমালয় পর্বতশ্রেণি:
উত্তর-পশ্চিমের পামীরগ্রন্থি থেকে নির্গত হয়ে এই পর্বতশ্রেণি অর্ধচন্দ্রাকারে পশ্চিমে জম্মু-কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচা-বারওয়া পর্বত পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ কিমি দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করছে।



হিমালয় পর্বতের ভূপ্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য :
হিমালয় পর্বতমালাকে ভূপ্রকৃতিগতভাবে দু-ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
(i) প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বতের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং
(ii) দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।

(i) প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বতের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:-

প্রস্থ বরাবর হিমালয় দক্ষিণ থেকে উত্তরে চারটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত, যথা:
(ক) শিবালিক হিমালয়।
(খ) হিমাচল হিমালয়।
(গ) হিমাদ্রি হিমালয় এবং
(ঘ) টেথিস হিমালয়।



(ক) শিবালিক হিমালয় :- হিমালয়ের সর্ব দক্ষিণ প্রান্তে কম উচ্চতাযুক্ত ছোটো-ছোটো পাহাড় সারি বেঁধে পশ্চিম থেকে পূর্বে বিস্তৃত রয়েছে, এদের শিবালিক পাহাড় বলে। এদের উচ্চতা ৬০০ থেকে ১,৫০০ মিটার, প্রস্থ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং বিস্তার প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার। শিবালিকের দক্ষিণ ঢাল খাড়া এবং উত্তর ঢাল গড়ানো। 

(খ) হিমাচল হিমালয় :- শিবালিকের উত্তরে এবং হিমাদ্রির দক্ষিণে ৬০ থেকে ৮০ কি.মি. চওড়া এবং ২,০০০ থেকে ৫,০০০ মিটার উঁচু পর্বতশ্রেণিগুলিকে হিমাচল হিমালয় বলে। বহুযুগ ধরে ক্ষয়ের ফলে হিমাচল হিমালয় বহু অংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
হিমাচলের প্রধান পর্বতশ্রেণিগুলি হল- পিরপঞ্জল, ধাওলাধর, মুসৌরী, মহাভারত প্রভৃতি। হিমাচল উত্তরে ক্রমশ ঢালু হয়ে হিমাদ্রিতে মিশেছে।

(গ) হিমাদ্রি হিমালয় :- হিমাচলের উত্তরে হিমালয় পর্বতের সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণি হিমাদ্রি অবস্থিত। এর উচ্চতা গড়ে প্রায় ৬,০০০ মিটারের বেশি উঁচু। হিমালয় পর্বতের এই অংশটি বছরের সব সময় বরফে ঢাকা থাকে বলে একে হিমাদ্রি বা হিমগিরি বলা হয়। হিমাদ্রি হিমালয়ের বিখ্যাত শৃঙ্গগুলি হল চিরতুষারাবৃত মাউন্ট এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, মাকালু প্রভৃতি। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার এবং এটি  পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গের উচ্চতা ৮,৫৯৮ মিটার। মাকালু পর্বতশৃঙ্গের উচ্চতা ৮,৪৮১ মিটার। হিমাদ্রি হিমালয় ক্রমশ ঢালু হয়ে তিব্বতের মালভূমিতে মিশেছে।

(ঘ) টেথিস হিমালয় :- হিমাদ্রির উত্তরে টেথিস বা তিব্বতীয় হিমালয় অবস্থিত। এটি একটি বিশাল মালভূমি অঞ্চল। ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের অংশ বিশেষ দেখা যায়।



(ii) দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:-

দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকার পার্থক্য অনুসারে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
(ক) পশ্চিম হিমালয়।
(খ) মধ্য হিমালয় এবং
(গ) পূর্ব হিমালয়।
 
(ক) পশ্চিম হিমালয় : পশ্চিমে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে নেপাল সীমান্তে অবস্থিত কালী নদী পর্যন্ত অংশে পশ্চিম হিমালয় পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত। ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে এই পর্বতশ্রেণিটি বিস্তার লাভ করেছে। এটি ভারতের মধ্যে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ও এর উচ্চতা ৮,১২৬ মিটার।
ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পশ্চিম হিমালয়কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
(১) কাশ্মীর হিমালয়।
(২) হিমাচল হিমালয় এবং
(৩) কুমায়ুন হিমালয়।

প্রধানত তিনটি পর্বতশ্রেণি নিয়ে পশ্চিম হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলটি গঠিত হয়েছে—
(i) লাদাখ পর্বতশ্রেণি।
(ii) জাস্কর পর্বতশ্রেণি এবং
(iii) পিরপিঞ্জল পর্বতশ্রেণি।
শ্রীনগরের দক্ষিণে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পিরপিঞ্জল পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত। এর উচ্চতা ৩,৫০০ থেকে ৫,০০০ মিটার। পিরপিঞ্জল পর্বতশ্রেণি কাশ্মীর উপত্যকাকে ভারতের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। কেবলমাত্র বানিহাল বা জহর পাস, পিরপিঞ্জল পাস, বুলন্দপীর প্রভৃতি গিরিপথগুলো দিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় প্রবেশ করা যায়। কাশ্মীর হিমালয়ের জোজিলা পাস গিরিপথটি দিয়ে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে লাদাখের রাজধানী লে-তে যাওয়া যায়। এছাড়া কুমায়ুন হিমালয়ের মানাপাস, নিতিপাস প্রভৃতি গিরিপথগুলি দিয়ে ভারতের উত্তরাঞ্চল রাজ্য থেকে তিব্বত যাওয়া যায়।

(খ) মধ্য হিমালয় : ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্য এবং নেপালে বিস্তৃত এই পার্বত্য অঞ্চলটিতে মাউন্ট এভারেস্ট, মাকালু, ধবলগিরি, অন্নপূর্ণা, গৌরীশঙ্কর প্রভৃতি পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গগুলি অবস্থিত। মধ্য হিমালয় হল পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিম হিমালয়ের সীমানা। এটি নেপালের অন্তর্গত।

(গ) পূর্ব হিমালয় : পশ্চিমে সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণি থেকে পূর্বে নামচাবারওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয়ের পূর্ব দিকের এই অংশটিকে মোটামুটি ভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:-
(১) সিকিম ও দার্জিলিং হিমালয়।
(২) ভুটান হিমালয় এবং
(৩) অরুণাচল হিমালয়।
এই পার্বত্য অঞ্চলটি ভুটান এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে বিস্তার লাভ করেছে। পূর্ব হিমালয়ের সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলাকে নেপাল থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এছাড়া সিকিম ও নেপাল সীমান্তে পূর্ব হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ বিরাজমান। এটি হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৮,৫৯৮ মিটার। কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গটি নেপালের ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে অবস্থিত।  সিকিম ও দার্জিলিং হিমালয় প্রায় খাড়াভাবে তরাই -এর সমভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অনুচ্চ শিবালিক পর্বতশ্রেণি এখানে প্রায় নেই বললেই চলে। পূর্ব হিমালয়ের নাথুলা পাস, জেলেপলা পাস প্রভৃতি গিরিপথগুলি দিয়ে তিব্বতের চুম্বি উপত্যকায় যাওয়া যায়।



ভারতের জনজীবনে হিমালয়ের প্রভাব:-

(i) হিমালয় পর্বত ভারতের উত্তর সীমান্তে দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো দন্ডায়মান থেকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে ভারতকে রক্ষা করছে।
(ii) হিমালয় পর্বত না থাকলে শীতকালে ভারতেও সাইবেরিয়ার মতো তীব্র শীতের প্রাবল্য দেখা যেত।
(iii) হিমালয়ের সুউচ্চ প্রাচীরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

(iv) হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহগুলো হল ভারতের গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি প্রধান নদীগুলোর উৎস। এছাড়া অন্যান্য নদীগুলোও হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট থাকে।

(v) ভারতের গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদীগুলি হিমালয় পর্বত থেকে প্রচুর পরিমাণে পলি বয়ে নিয়ে এসে উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিশাল সমভূমি অঞ্চলের সৃষ্টি করেছে।





[২] উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চল ও মেঘালয় মালভূমি:-

(ক) উত্তর পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চল বা পূর্বাঞ্চল:-
উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অংশে মেঘালয় বাদে ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত অনেকগুলি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণি রয়েছে, এদের একসঙ্গে উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চল বা পূর্বাচল বলে। এই পর্বতশ্রেণিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিশমি পাহাড়, পাটকই পাহাড়, বুম, নাগা পাহাড়, কোহিমা পাহাড়, বরাইল পর্বতশ্রেণি, উত্তর কাছাড় পাহাড়, মণিপুর পাহাড়, মিজো পাহাড় ও ত্রিপুরা পাহাড়। এখানকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত লকটক হ্রদ নিসর্গ সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।

(খ) মেঘালয় মালভূমি:-

মেঘালয় প্রদেশে অবস্থিত গারো, খাসি, জয়ন্তিয়া ও মিকিরের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে গঠিত মেঘালয় মালভূমি প্রকৃতপক্ষে দাক্ষিণাত্যের মালভূমিরই একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। এই মালভূমির পশ্চিমে অবস্থিত গারো পাহাড়র। গারো পাহাড়রে সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গ নকরেক এবং এর উচ্চতা ১৪১২ মিটার। উত্তরে বিস্তৃত রয়েছে শিলং পাহাড়, উত্তর-পূর্ব দিকে বিস্তৃত রয়েছে মিকির পাহাড়ি অঞ্চল, মধ্যভাগে অবস্থিত রয়েছে খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়। এদের উচ্চতা ১৫০০ থেকে ২০০০ মিটার। শিলং মালভূমির দক্ষিণে চেরা মালভূমি অবস্থিত । এটি চুনাপাথরে গঠিত। এই মালভূমিতে চুনাপাথরের বহু গুহা দেখা যায়।


[৩] উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমি অঞ্চল:-
অবস্থান:-  উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা ও দক্ষিণের মালভূমির মধ্যবর্তী অঞ্চলে সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বিধৌত এই বিশাল সমভূমি অঞ্চলটি হল ভারতের সবচেয়ে উর্বর ও জনবহুল অঞ্চল ।
শ্রেণি বিভাগ :-  ভূপ্রকৃতিগতভাবে উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমি অঞ্চলটিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় :- যেমন (i) পশ্চিমের সমভূমি।
(ii) মধ্যভাগের সমভূমি।
(iii) পূর্ব দিকের সমভূমি।

(i) পশ্চিমের সমভূমি:- সিন্ধুনদের উপনদী বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা ও শতদ্রুর পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত পশ্চিমের সমভূমি অঞ্চলটি পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রায় ৯৫,৭১৪ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে আছে । পশ্চিমের সমভূমি অঞ্চলের দক্ষিণ অংশ (রাজস্থান সমভূমি) খরা প্রবণ মরুভূমি হলেও উত্তর অংশ পলিগঠিত উর্বর সমভূমি।
(ii) মধ্যভাগের সমভূমি:-  গঙ্গা, যমুনা এবং তাদের বিভিন্ন উপনদীর সঞ্চয় কাজের ফলে মধ্যের সমভূমি অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে । এই অঞ্চলের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পশ্চিম অংশের সমভূমিকে উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি বলা হয় । উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশ এবং বিহারের উত্তরাংশে অবস্থিত সমভূমিটি মধ্য গাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত ।
(iii) পূর্ব দিকের সমভূমি:-  পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল এবং অসম রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র সমভূমি নিয়ে পূর্বের সমভূমি অঞ্চল গঠিত হয়েছে।
  • গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল:- গঙ্গা-পদ্মা ও ভাগীরথী-হুগলী নদীর মধ্যবর্তী ভূভাগ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপের অংশ বিশেষ।
  • ব্রহ্মপুত্র সমভূমি :- গাঙ্গেয় সমভূমির পূর্বদিকে অসম রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং তার বিভিন্ন উপনদী যে সমভূমি গঠন করেছে তাকে ব্রহ্মপুত্র সমভূমি বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা বলা হয়।



[৪] ভারতের বিশাল মালভূমি অঞ্চল:-
অবস্থান ও উৎপত্তি :- উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের দক্ষিণে তিন দিকে সমুদ্রে ঘেরা এক বিশাল মালভূমি অঞ্চল অবস্থান করেছে। পৃথিবীর প্রাচীনতম ভূখণ্ড গান্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ বিশেষ, এই মালভূমিটি অতিপ্রাচীন আগ্নেয় ( গ্রানাইট ) এবং রূপান্তরিত ( নাইস ) শিলা দিয়ে গঠিত।
শ্রেণিবিভাগ :-  নর্মদা নদী এই মালভূমি অঞ্চলকে মোটামুটি দুই অংশে ভাগ করেছে যথা -
(ক) মধ্য ও পূর্ব ভারতের মালভূমি ও উচ্চভুমি এবং
(খ) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।

(ক) মধ্য ও পূর্ব ভারতের মালভূমি ও উচ্চভুমি:- দক্ষিণে বিন্ধ্য পর্বত, পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত এবং পূর্বে ছোটোনাগপুর মালভূমি দিয়ে ঘেরা এই মালভূমি ও উচ্চভূমি অঞ্চলটি উত্তর দিকে ক্রমশ ঢ়ালু হয়ে উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে।
(i) মধ্য ভারতের উচ্চভূমি ও মালভূমি:-  এই অঞ্চল উত্তর থেকে দক্ষিণে কয়েকটি প্রধান ভুপ্রাকৃতিক অংশে বিভক্ত, যেমন:-
(১) আরবল্লি পর্বত শ্রেণি।
(২) বুন্দেলখন্ড মালভূমি।
(৩) বিন্ধ্য পর্বত।
(৪) মালব মানভুমি।
(৫) রেওয়া মালভূমি
(১) আরাবল্লী পর্বত শ্রেণি:- আরাবল্লী ভারতের প্রাচীনতম পর্বত এবং পৃথিবীর প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত সমুহের অন্যতম। এই পর্বতটি দিল্লি থাকে আমেদাবাদ পর্যন্ত ৮০০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা কম বেশি ৭৫০ মিটার। আবু পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত গুরু শিখর আরবল্লীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এর উচ্চতা ১৭৭২ মিটার।
(২) বুন্দেলখন্ড মালভূমি:-  এই মালভুমি অঞ্চলটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উচ্চভূমিতে পরিণত হয়েছে।
(৩) বিন্ধ্য পর্বত:- বিন্ধ্য পর্বত মধ্যভারতের উচ্চভূমির প্রায় দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রসারিত। বিন্ধ্য পর্বতের ওপরটা সমতল এবং ধার গুলো ক্ষয় পেয়ে সিঁড়ির মতো হয়ে গেছে।
(৪) মালব মানভুমি:-  বিন্ধ্য পর্বতের উত্তরে লাভা দিয়ে গঠিত এই মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি উঁচুনীচু ও তরঙ্গায়িত।
(৫) রেওয়া মালভূমি:- এই মালভূমিটি বিন্ধ্য পর্বতের পূর্ব দিকে অবস্থিত।

(ii) পূর্বভারতের উচ্চভূমি ও মালভূমি:-  মধ্যভারতের মালভূমি অঞ্চলটি পূর্বদিকে প্রসারিত হয়ে পূর্বভারতের উচ্চভুমি ও মালভূমি অঞ্চল গঠন করেছে। (১) ছোটনাগপুরের মালভূমি, (২) বাঘেলখন্ড মালভূমি, (৩) গড়জাত পাহাড় ও দণ্ডকারণ্য মালভূমি।
(১) ছোটনাগপুরের মালভূমি:-
(ক) রাঁচি মালভূমি, (খ) হাজারীবাগ মালভূমি, (গ) কোডারমা মালভূমি নিয়ে গঠিত ছোটনাগপুরের মালভূমির। এদের গড় উচ্চতা ৭০০ মিটার।
(২) বাঘেলখন্ড মালভূমি:- বাঘেলখন্ড মালভূমিটি শোন নদীর দক্ষিণে অবস্থিত এবং এটি গ্রানাইট ও প্রাচীন পাললিক শিলায় গঠিত ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল।
(৩) গড়জাত পাহাড় ও দণ্ডকারণ্য মালভূমি:-  এই অঞ্চলের বোনাই, কেওনঝাড় ও সিমলিপাল পাহাড়গুলি উল্লেখযোগ্য।

(খ) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি:-  নর্মদা নদীর দক্ষিণে অবস্থিত ত্রিভুজ আকৃতির দাক্ষিণাত্য মালভূমিটি পূর্বে পূর্বঘাট পর্বত, পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বত এবং উত্তরে সাতপুরা পর্বত দিয়ে ঘেরা। এছাড়া এই মালভূমি অঞ্চলটি পশ্চিম দিকে উঁচু এবং পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ক্রমশ ঢ়ালু হয়ে গেছে। পশ্চিম ঘাট ও পূর্বঘাট পর্বত দুটি ভারতের দক্ষিণে অবস্থিত নীলগিরি পর্বতে পরস্পর মিলিত হয়েছে। মহারাষ্ট্র,  কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু ভারতের এই চারটি রাজ্য দাক্ষিণাত্য মালভুমি অঞ্চলের অন্তর্গত।
(১) পশ্চিমঘাট পর্বত:- পশ্চিমঘাট পর্বত মহারাষ্ট্রে সহ্যাদ্রি নামে পরিচিত। এই পর্বতটি ভারতের পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর খাড়াভাবে উঠে গিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৬০০ কিমি দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করছে। তামিলনাড়ুতে এই পর্বতের পূর্বদিকে প্রসারিত অংশ নীলগিরি পর্বত নামে পরিচিত। নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম ডোডাবেতা। এর উচ্চতা ২৬৩৭ মিটার। দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত শৈলশহর উটি নীলগিরি পর্বতে অবস্থিত। পশ্চিমঘাট পর্বতটি আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে কেরালা রাজ্যে আনাইমালাই এবং কার্ডামম পর্বত নামে পরিচিত লাভ করেছে। আনাইমালাই পর্বতের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ হল আনাইমুদি। এর উচ্চতা ২৬৯৫ মিটার। এটি দাক্ষিণাত্য মালভূমির সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।
(২) পূর্বঘাট পর্বত:- সেভরয়, জাভাদি, নান্নামালাই প্রভৃতি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন পর্বতের সমষ্টি হল পূর্বঘাট পর্বতমালা। এটি দাক্ষিণাত্য মালভূমির পূর্ব সীমানা রচনা করেছে। পূর্ব দিকে এই পর্বতমালা ক্রমশ ঢ়ালু হয়ে পূর্ব উপকূলের সমভূমিতে এসে মিশে গেছে। এর উচ্চতা তুলনামুলক ভাবে কম। গোদাবরী, কৃষ্ণা, পেন্নার প্রভৃতি নদী উপত্যকা এই পর্বতমালাকে মাঝে মাঝেই বিছিন্ন করেছে। মহেন্দ্রগিরি হল পূর্বঘাট পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এর উচ্চতা ১৫০০ মিটার।
(৩) ডেকান ট্রাপ [Deccan Trap]:-  দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমি অঞ্চলটি ডেকান ট্রাপ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলটি পৃথিবীর সুপ্রাচীন ভূখণ্ড গান্ডোয়ানাল্যান্ডের অন্তর্গত একটি মালভূমি। আজ থেকে প্রায় ৬-৭ কোটি বছর আগে ভূত্বকের প্রশস্ত ফাটল পথে ভু-গর্ভস্থ লাভা নিঃসৃত হয়ে এই অঞ্চলটিকে চাদরের মতো ঢেকে দেয়, এই ভাবে ডেকান ট্রাপ অঞ্চলটি সৃষ্টি হয়েছে। লাভা নিঃসরণের ঘটনা থেমে থেমে ঘটায় এখানকার লাভা স্তরে স্তরে সজ্জিত এবং স্থান বিশেসে ১৫০ মিটার থেকে প্রায় ২০০০ মিটার গভীর। পরবর্তীকালের বৃষ্টি, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়িত লাভা স্তরের পার্শ্বদেশ সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে ওপর থেকে নিচে নেমে গেছে, এইজন্য এই লাভায় ঢাকা মালভূমি অঞ্চলটিকে ডেকান ট্রাপ (Deccan Trap) বলে [deccan ] ( দাক্ষিণাত্য ) trap ( সিঁড়ি বা ধাপ )। দাক্ষিণাত্যের লাভাজাত মৃত্তিকা কালোরঙের, তাই এই অঞ্চলের অন্য নাম দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল।
কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চলের প্রধানত ৪টি ভুপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়,  যথা:-
(১) পুরো কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চলটি পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ধাপে ধাপে নেমে গেছে।
(২) এই ধাপগুলোর মাথা সমতল কিন্তু পার্শ্বদেশ একেবারে খাঁড়া।
(৩) এই অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মাথা সমতল বা চ্যাপ্টা।
(৪) সামগ্রিক অঞ্চলটিকে দেখতে ট্রাপ বা সিঁড়ির মতো, তাই একে ডেকান ট্রাপ বলা হয়।





[৫] ভারতের মরুভূমি অঞ্চল:-
অবস্থান :- আরবল্লী পর্বতের পশ্চিমদিকে অবস্থিত রাজস্থান রাজ্যের যোধপুর, বিকানীর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আছে শুধু বালি আর বালি। এই অঞ্চলটি বিখ্যাত থর মরুভূমিরঅংশ রূপে ভারতীয় সীমানা ছাড়িয়ে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের খয়েরপুর ও বাহাওয়ালপুর অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। মরুভূমির ভয়াল রূপটি এখানে পরিস্ফুট হয়েছে, এই কারণেই ভারতীয় মরুভূমির এই অংশটি ‘মরুস্থলী’ নামে পরিচিত  হয়েছে।
সিমা:- ভারতের মরুভূমি অঞ্চলের উত্তরে পাঞ্জাব সমভূমি, দক্ষিণে গুজরাট সমভূমি, পূর্বে আরবল্লী পর্বতশ্রেণি এবং পশ্চিমে পাকিস্তানের মরু অঞ্চল অবস্থিত।
ভূপ্রকৃতি:-  এই অঞ্চলটি প্রধানত সমতল এবং বালি আর পাথুরে মাটি দিয়ে গঠিত। আরবল্লী পর্বত থেকে যতই পশ্চিমে যাওয়া যায় ভুমির উচ্চতা ততই কমতে থাকে। জয়সলমীরের নিকটবর্তী সমভূমিতে কয়েকটি ছোট ছোট পাহাড় দেখা যায়। সমগ্র মরু অঞ্চলটি একটি শুষ্ক ও খরা প্রবণ অঞ্চল। মরুভূমির মাঝে মধ্যে ছোট নদী বা প্রস্রবণ দেখা গেলেও গ্রীষ্মকালে এরা শুকিয়ে গিয়ে বালির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। লুনী এই অঞ্চলের একমাত্র বড় নদী। মরুভূমি অঞ্চলে নীচু অংশে বেশ কয়েকটি লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়। এদের মধ্যে আরবল্লী পর্বতের একটি খাঁজের মধ্যে অবস্থিত ভারতের মরুভূমি অঞ্চলের সবচেয়ে বড় লবণাক্ত হ্রদ হল সম্বর হ্রদ।

[৬] ভারতের উপকূলের সমভূমি অঞ্চল:-
ত্রিভুজাকৃতি দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলের পূর্ব প্রান্তে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম প্রান্তে আরব সাগরের উপকূল বরাবর সংকীর্ণ সমভূমিকে ভারতীয় উপকূলবর্তী সমভূমি অঞ্চল বলা হয়। ভারতীয় উপকূলবর্তী সমভূমি অঞ্চলটি দুই ভাগে বিভক্ত :- 
(ক) পশ্চিম উপকূলের সমভূমি।
(খ) পূর্ব উপকূলের সমভূমি।

(ক) পশ্চিম উপকূলের সমভূমি :-  
পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ ও বন্ধুর সমভূমিটি উত্তর দিকে গুজরাটের সমভূমি অঞ্চলে খানিকটা চওড়া হয়ে গেছে। কচ্ছ উপদ্বীপ এবং কচ্ছের রণ  অঞ্চলকে নিয়ে গঠিত গুজরাট উপকূলের সমভূমি একটি প্রশস্ত সমতলভূমি। কোনোও এক সময় কচ্ছের রণ অঞ্চলটি আরব সাগরের একটি প্রসারিত অগভীর অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রীষ্মকালে এই সমভূমি অঞ্চলটি সম্পূর্ণ শুষ্ক, উদ্ভিদহীন ও সাদা লবণে ঢাকা বালুকাময় প্রান্তরে রূপান্তরিত হয়। কচ্ছ উপসাগর ও খাম্বাত উপসাগর নামে আরব সাগরের দুটি প্রসারিত অংশ গুজরাট সমভূমির মধ্যে কিছুদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। কচ্ছ অঞ্চলের কিছুটা দক্ষিণে অবস্থিত কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ অঞ্চলটি সৌরাষ্ট্র নামেও পরিচিত। গিরণর সৌরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পাহাড়। এর উচ্চতা ১১১৭ মিটার। ভারতের পশ্চিম উপকূলের সমভূমি মহারাষ্ট্রে কোঙ্কন উপকূল, কর্ণাটকের কানাড়া উপকূল এবং কেরালায় মালাবার উপকূল নামে পরিচিত। উত্তরে বিভিন্ন নদীর মোহনা এবং দক্ষিণে কেরালা উপকূলে ছোট বড় হ্রদ এবং উপহ্রদ (লেগুন) বা ‘কয়ালের’ উপস্থিতি হল পশ্চিম উপকূলের অন্যতম ভুপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। প্রায় ৬৩ কিমি লম্বা ‘ভেম্বানাদ কয়াল’ এই অঞ্চলের বৃহত্তম উপহ্রদ। 

পশ্চিম উপকূলের সমভূমি :-
(১) এটি ভারতের পশ্চিম দিকে আরবসাগরের উপকূল বরাবর অবস্থিত। 
(২) পশ্চিম উপকূলের ভুমিভাগ সংকীর্ণ, উঁচু, নীচু ও বন্ধুর। 
(৩) এখানে বিভিন্ন নদীর মোহনা ও উপহ্রদ দেখা যায়। 
(৪) এই সমভূমি মহারাষ্ট্রে কোঙ্কন উপকূল, কর্ণাটকে কানাড়া উপকূল এবং কেরালায় মালাবার উপকূল নামে পরিচিত। 

(খ) পূর্ব উপকূলের সমভূমি:- 
ভারতের পূর্ব প্রান্তে বঙ্গোপসাগর উপকূলের সমভূমি পশ্চিম উপকূলের সমভূমির তুলনায় বেশি চওড়া ও সমতল। সমগ্র পূর্ব উপকূলের সমভূমিটি গোদাবরী বদ্বীপের উত্তরে উত্তর সরকার উপকূল এবং গোদাবরী বদ্বীপের দক্ষিণে করমণ্ডল উপকূল নামে পরিচিত। পূর্ব উপকূলের সমভূমিতে অনেকগুলো হ্রদ আছে এর মধ্যে উড়িষ্যা উপকূলের চিল্কা ও কোলেরু এবং অন্ধ্র উপকূলের পুলিকট উল্লেখযোগ্য হ্রদ।
পূর্ব উপকূলের সমভূমি:-
(১) এটি ভারতের পূর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর অবস্থিত।
(২) পূর্ব উপকূলের ভুমিভাগ প্রশস্ত ও সমতল।
(৩) এখানে বিভিন্ন নদীর বদ্বীপ দেখা যায়, যা খুব উর্বর।
(৪) এই সমভূমি গোদাবরী অববাহিকার উত্তর দিকে উত্তর সরকার উপকূল এবং দক্ষিণ দিকে করমণ্ডল উপকূল নামে পরিচিত। 

[৭] দ্বীপপুঞ্জ :- 
(ক) পূর্ব উপকূলের বঙ্গোপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ।
(খ) পশ্চিম উপকূলের আরব সাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ।
(ক) পূর্ব উপকূলের বঙ্গোপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ :- 
ভারতের পূর্ব দিকে কলকাতা থেকে প্রায় ১২৫৫ কিমি ও চেন্নাই থেকে ১১৯১ কিমি দূরত্বে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত প্রায় ৩২৪ টি দ্বীপের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জইপ্রধান। এই অঞ্চলের অন্য সব দ্বীপগুলো আয়তনে খুবই ছোট হওয়ায় ও পানীয় জলের অভাবের জন্য জনবসতিহীন। গোটা আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত :- 
(i) বড়ো আন্দামান।
(ii) ছোট আন্দামান।
নিকোরব দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপগুলোর মধ্যে দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত বৃহৎ নিকবর দ্বীপটি সবচেয়ে বড়ো। এই দ্বীপের দক্ষিণের শেষ প্রান্তটির নাম ইন্দিরা পয়েন্ট, এটি ভারতের দক্ষিণতম স্থল বিন্দু। আন্দামান ও নিকবর দ্বীপপুঞ্জ দুটি ১০ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত ১০ ডিগ্রি চ্যানেল নামে গভীর সাগর দ্বারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। আন্দামান ও নিকবর দ্বীপপুঞ্জ দুটির মোট আয়তন ৮২৯৩ বর্গ কিমি।  ভুপ্রাকৃতিক দিক থেকে এরা গভীর সমুদ্রে ডুবে থাকা মায়ানমারের আরাকান ইয়োমা পর্বতের একটি অংশ, যা সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে গিয়ে পূর্ব দিকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে । আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নারকনদম ও ব্যারেন দ্বীপে দুটি সবিরাম আগ্নেয়গিরি আছে ।
(খ) পশ্চিম উপকূলের আরব সাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ :-  ভারতের পশ্চিম দিকে কেরালার মালাবার উপকুল থেকে প্রায় ৩২৪ কিলোমিটার দূরত্বে ৩৬ টি ছোট ছোট প্রবাল দ্বীপ নিয়ে লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। লাক্ষা, আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের সরকারি নাম রাখা হয়েছে লাক্ষাদ্বীপ। লাক্ষা, আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তন ৩২ বর্গকিলোমিটার মাত্র। এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড়ো দ্বীপ হল মিনিকয় দ্বীপ। এর আয়তন ৪.৫০ বর্গ কিমি। ভুবিজ্ঞানীদের মতে, আরবল্লী পর্বতের সম্প্রসারিত শিলাস্তরের ওপর যুগ যুগ ধরে আরব সাগরের প্রবাল কীটদের মৃত দেহাবশেষ স্তরে স্তরে সজ্জিত হয়ে এই দ্বীপপুঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে।

১টি মন্তব্য for "ভারতের ভূপ্রকৃতি: (The topography of India)."

  1. When you register model new} Ignition on line casino account, you’ll be able to|be capable of|have the power to} claim a 150% match deposit bonus in your first deposit. This supply has a maximum value of $3,000 that is break up between on line casino games, including Baccarat, and Poker. Before withdrawing any winnings, you'll need to wager your bonus a total of 25x. Playing baccarat on-line for actual money 바카라 사이트 offers you the benefit of|the good factor about|the benefit of} ready to|with the power to|having the power to} withdraw and enjoy your winnings. If you wish to attempt a game earlier than making a deposit, we advocate free play or apply demos at on-line casinos.

    উত্তরমুছুন